kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, হুগলি: বাংলা নতুন বছর পড়তেই প্রস্তুতি জোর কদমে শুরু হয়ে যায় জগন্নাথ দেবের রথযাত্রার। কিন্তু মারণ মহামারি করোনার জেরে পুরী থেকে শ্রীরামপুরের মাহেশ- সর্বত্রই রথযাত্রা উৎসব নিয়ে গভীর উদ্বেগে উদ‍্যোক্তা থেকে জনগণ। ইতিমধ‍্যে পুরীর রথযাত্রা নিয়ে কথা হয়েছে ওড়িশা সরকারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের। মাহেশ কর্তৃপক্ষও চিন্তিত এবারের রথযাত্রা উৎসবের আড়ম্বর নিয়ে। আর এইসব কিছুর মাঝে আজকে অক্ষয় তৃতীয়ার দিন বৈশাখ মাসে মাহেশে জগন্নাথ দেবের চন্দনযাত্রা পালিত হল অনাড়ম্বর ভাবে।

পরের মাসে প্রভুর স্নান যাত্রা, তারপরের মাসে রথযাত্রা উৎসব। দেশের বড় বড় উৎসবের মধ‍্যে রথযাত্রা উৎসব অন‍্যতম। আর পুরীর পরই মাহেশের রথ ঐতিহ‍্যে ও বয়সে প্রাচীন। লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম হয় মাহেশের রত্রযাত্রা উৎসবে। তা ছাড়াও আজকের দিন থেকে পরের মাসে স্নান যাত্রা পর্যন্ত‍ অনেক ভক্তের ভিড়ে জমাজমাট হয়ে ওঠে মাহেশের জগন্নাথ মন্দির। কারণ স্নানযাত্রার পর টানা পনেরো দিন বন্ধ থাকে দর্শন। আবার রত্রযাত্রার দিন জগন্নাথের দর্শন পায় ভক্তরা। কিন্তু প্রাচীন রীতিনীতি মেনে দিনক্ষণ অনুযায়ী এবছর কোনও মানুষের জয়ায়েত ছাড়াই পালিত হল জগন্নাথ দেবের চন্দনযাত্রা। দু’একজন স্থানীয় উৎসুক মানুষ উপস্থিত হলেও মন্দির চত্বর ছিল একবারে ফাঁকা। পঞ্জিকা মতে সকাল ৯.২২ মিনিটের মধ‍্যে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রার অঙ্গে চন্দন লেপন করা হল প্রাচীন প্রথা মেনে। আর এই চন্দনযাত্রার মাধ‍্যমে সূচনা হল রথযাত্রা উৎসবের।

মাহেশের প্রধান সেবাইত সৌমেন অধিকারী জানান, আজকের দিনে প্রচুর মানুষের ভিড় হতো। কিন্তু সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী মন্দিরের দরজা সর্বসাধারণের জন‍্য বন্ধ। তাই জমায়েত ছাড়াই প্রশাসনের নির্দেশ মেনেই এই উৎসব পালন করা হলো। মন্দিরের আর এক সেবাইত ও মাহেশের জগন্নাথ ট্রাস্টি বোর্ডের সম্পাদক পিয়াল অধিকারী জানান, আজকের চন্দনযাত্রা উৎসব পালন হল অনাড়ম্বর ভাবেই। ভক্তের প্রবেশ নিষেধ। প্রভু জগন্নাথের ইচ্ছা অনুযায়ী এই উৎসব পালিত হল। আগামী দিনে এই করোনা মহামারি থেকে প্রভুই আমাদের উদ্ধার করবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here