imran and trump kolkata bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: হাউইয়ের মতো উড়ে গেল হাউস্টনের যাবতীয় ট্রাম্পের ভারত প্রেম৷ আসলে এটা যে সবটাই লোক দেখানো তা ফের একবার প্রমাণ হল৷ রবিবারে ভারত নিয়ে ভূয়সী প্রশংসা, মোদীর সঙ্গে সখ্যতা সব নিমিশে ২৪ ঘন্টার মধ্যেই উড়ে গেল৷ নিউইয়র্কে সোমবার পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরানের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প ফের জানালেন দুই দেশ চাইলে তিনি কাশ্মীর নিয়ে মধ্যস্থতা করতে পারেন৷ এমনকী তিনি জানান, তিনি খুব ভাল মধ্যস্থতাকারী৷ ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য ৫০ হাজারি জনসভায় ‘আবকি বার ট্রাম্প সরকার’ বলে মোদীর ‘তেল মারা’ বিফলে গেল৷ অথবা নিজের পরিবারের সদস্য বললেও ট্রাম্পকে গলাতে পারেননি তিনি৷ তাঁর প্রমাণ হাতে নাতে তিনি ২৪ ঘন্টার মধ্যেই পেলেন৷ ডোনাল্টের চোখে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অতিনাটকীয় মনে হয়েছে৷ আর তাই ইমরানকে পাশে রেখে তিনি সোজা জানান, মোদী হাউস্টনে বড্ড বাড়াবাড়ি করে পেলেছেন৷ ফলে ট্যুইট টাওয়ার ও মুম্বই হামলাকে এক করে মোদীর কূটনৈতিক চাল একেবারে মাঠে মারা গেল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের এক বিরাট অংশ৷

সোমবার নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের ৭৪তম সাধারণ সভা উপলক্ষ্যে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউইয়র্কে উপস্থিত৷ ‘উগ্র ইসলামিক সন্ত্রাসবাদ মুক্ত করার জন্য’ আমেরিকার সংকল্পের উপর জোর দিয়ে এই নিয়ে তৃতীয়বার মধ্যস্থতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এর আগেও ইমরান খানের সঙ্গে বৈঠককালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসলামাবাদ ও নয়াদিল্লির মধ্যে মধ্যস্থতার কথা বলেছিলেন। কিন্তু ভারত জম্মু ও কাশ্মীর দ্বিপাক্ষিক ইস্যু এই কথা বলে ওই প্রস্তাবে দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলে দেয়।রবিবার হাউস্টনে বক্তব্য রাখার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পাকিস্তানকে নিশানা করেন। নাম না করে তিনি বলেন একটি দেশ রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিচ্ছে এবং সেখানে কাশ্মীর উত্থাপন করবে বলে আশা করা হচ্ছে, অথচ‘তাঁরা ক্রমাগত সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে চলেছে, তাঁরা সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয় দিচ্ছে’।
হাউস্টনে নাম না করে পাকিস্তানের কড়া সামলোচনা করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী৷ তাতে বেশ হাততালি পড়লেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ডের মন ভেজাতে পারেনি৷ আতই তিনি ইমরানকে আপশে নিয়ে জানান মোদীর ভাষণ বেশ উগ্র ছিল তাতে দর্শক খুশি হলেও তিনি হননি৷ রবিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন‘আমেরিকার ৯/১১ বা মুম্বইয়ের ২৬/১১, যেটার কথাই বলুন না কেন, হামলার সঙ্গে ষড়যন্ত্রকারীদের কোথায় পাওয়া যায়? কেবল আপনি নন, গোটা বিশ্বই জানেন যে এরা কারা’ ।নরেন্দ্র মোদির ওই বক্তব্যের পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিরীহ অসামরিক নাগরিকদেরকে উগ্র ইসলামী সন্ত্রাসবাদের হুমকি এবং সীমান্ত সুরক্ষা কার্যকর করার হুমকি থেকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেন।

পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদীদের একটি ঘাঁটি, ভারতের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে তিনি একমত কিনা তা জানতে চাওয়া হলে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘এক্ষেত্রে আমি ইরানের দিকে আরও অনেক বেশি ইঙ্গিত করছি’। রবিবার হিউস্টনে পাকিস্তানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির মন্তব্যকে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক বলে মন্তব্য করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন যে এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ৫০,০০০ প্রবাসী ভারতীয় মোদির এই বক্তব্যের তারিফ করেছেন। তাই রাষ্ট্রসংঘের ৭৪তম অধিবেশনেরআগে নয়াদিল্লি ভেবেছিল হাউস্টন দিয়ে পাকিস্তানকে মাৎ করে দেওয়া গেছে৷ তাঁদের এই ধারণা ভ্রান্ত বলে প্রমাণিত হল৷ তবে আন্তর্জাতিকবিদদে একাংশের ধারণা আমেরিকার আফগান নীতির জন্য পাকিস্তানকে হাতে রাখতে চান আমেরিকার প্রেসিডডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ আর তাই তিনি পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরানকে চটাননি৷ তবে তাঁর এহেন বক্তব্যর পরে রাষ্ট্রসংঘে কাশ্মীর ইস্যুতে খুব একটা স্বস্তিকর জায়গায় থাকবে না ভারত বলে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here