uttarakhand forest fire

মহানগর ওয়েব ডেস্ক: দাবানল ঠেকানো যাচ্ছে না। উত্তরাখণ্ডে। কারণ বনাগ্নি ঠেকাতে পর্যাপ্ত আধুনিক ব্যবস্থাই নেই অগ্নিনির্বাপণ কর্মীদের কাছে। তাই লেলিহান আগুন ঠেকাতে তাদের ভরসা সাবেকি ‘ঝাপা’। ঝাপা কী? ঝাপা হচ্ছে স্থানীয়দের ভাষায়, আগুন নেভানোর প্রথাগত এক ব্যবস্থা, যাতে একগাছা গাছের ডালপালা দিয়ে পিটিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা হয়। আপাতত তা দিয়েই সর্বগ্রাসী আগুনকে পরাস্ত করতে মরিয়া বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর ও বনকর্মীরা।

uttarakhand forest fireদাবানল উত্তরাখণ্ডে একটি সাধারণ ঘটনা। ফি-বছর হাজার হাজার হেক্টর বনাঞ্চল সেই আগুনে পুড়ে ছারখার হয়ে যায়। এ বছরেও আলমোরা এবং নৈনিতাল সহ বিস্তীর্ণ এলাকা দাবানলে কোপে পড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনও সেই বনাগ্নির রাক্ষুসে খিদে মেটেনি। উত্তরাখণ্ডের সুবিশাল বনাঞ্চলের কমপক্ষে শ’তিনেক এলাকা এবং গোটা উত্তর ভারতের অন্তত চোদ্দ হাজার এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাতাসের গতিতে বন ছাড়িয়ে বনান্তরে ছড়িয়ে পড়ছে সেই বনাগ্নি। এমনকী ইসরোর উপগ্রহ মারফত মহাকাশ থেকেও সেই ছবি দেখা যাচ্ছে।

uttarakhand forest fireমধ্য ও পশ্চিম ভারতে চলা তীব্র খরার জন্যই দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে পুড়ে খাক হয়েছে প্রায় ৫ হাজার একর বনাঞ্চল এবং অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়ে অন্তত দু’জনের। আগুন আয়ত্তে আনতে বিমানবাহিনীর কপ্টার থেকে লাগাতার জলবর্ষণের চেষ্টা কাজে আসেনি। ধোঁয়ার ফলে সে কাজে বিঘ্ন ঘটছে। এখনও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। যদিও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং উত্তরাখণ্ড বন দপ্তরের দাবি, তাদের তৎপরতা এবং কার্যকরী পদক্ষেপের কারণেই বনাঞ্চলের বাইরের এলাকা অনেকাংশে রক্ষে করা গিয়েছে। নইলে ক্ষয়ক্ষতির ছবিটা বদলে যেতে পারত।

uttarakhand forest fireতবে অভিযোগ উঠেছে, দাবানলের মোকাবিলায় আমাদের দেশে এখনও সেই মান্ধাতা আমলের পদ্ধতির প্রয়োগ চলছে। বুধবার সোশ্যাল একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছেন কুমায়ুনের পশ্চিম সার্কলের মুখ্য বনপাল ড. পরাগ মধুকর ধাকাতে। তিনি লিখেছেন, হিমালয়ের উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশী এলাকার অত্যন্ত উঁচু এলাকায় রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং উত্তরাখণ্ড বন দপ্তর একযোগে কাজ করছে। যদিও এখানে কাজ করা ভীষণ চ্যালেঞ্জের, তবুও আমরা আমাদের বনভূমিকে রক্ষার জন্য সদাসক্রিয় রয়েছি। কয়েক হাজার কর্মী দিনরাত এক করে কাজ করে চলেছেন। কিন্তু তারা কতটা সুরক্ষিত? তাদের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাই বা কতটা আধুনিক?

uttarakhand forest fireফেসবুক এবং ট্যুইটারে পোস্ট করা ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা হাতে গাছের ডালপালা দিয়ে বাড়ি মেরে মেরে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন। যদিও তাদের কাছে আগুন নেভানোর প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জাম নেই। তারা গাছের ডালপালা দিয়ে পিটিয়ে পিটিয়ে এই ভয়াবহ আগুন নেভাতে চেষ্টা করছেন। প্রশ্ন উঠেছে, আমাদের দেশে কি আগুন নিয়ন্ত্রণের উপযুক্ত সরঞ্জাম নেই? দেশ কি অগ্নিনির্বাপণ কর্মীদের নিরাপত্তার জন্য আগুন-নিরোধী জ্যাকেট, বুটজুতো ইত্যাদি সরবরাহ করতে অক্ষম? উত্তর যদি না হয়, তবে আমরা কেন আজও সেই পুরনো প্রথা আঁকড়ে আছি?

uttarakhand forest fireঅথচ উন্নত বিশ্বে দাবানল ঠেকাতে বহুবিধ উপায় অবলম্বন করা হয়ে থাকে। অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে ‘ব্যাকফায়ার’ করা হয়। সেটি হচ্ছে, আগুন যাতে ছড়িয়ে না পড়তে পারে তার জন্য নিজেরাই একটা নির্দিষ্ট রেখা ধরে নিজেরাই আগুন লাগিয়ে দেয় এবং দ্রুত নিভিয়ে ফেলে। এর ফলে আগুন এসে ইন্ধন না পেয়ে আর এগোতে পারে না। অনেক দেশ আগুনের এই ইন্ধন মুছে ফেলতে ছাগল বা ভেড়াকেও কাজে লাগায়। একটা নির্দিষ্ট রেখা ধরে জায়গাটি ঘিরে ফেলে তার মধ্যে ছাগল ছেড়ে দেওয়া হয়। তারা সেই অংশের ঘাস-পাতা-লতা খেয়ে ফেলে। ফলে দাহ্যবস্তু না পেয়ে আগুন আর এগিয়ে আসতে পারে না। এছাড়া কপ্টার থেকে আগুন নেভাতে সক্ষম কেমিক্যাল স্প্রে করা হয়।

uttarakhand forest fireঅথচ ভারত এখনও সেই মান্ধাতার আমলের পদ্ধতি আঁকড়ে বসে আছে। তাই সাড়ে ছয় হাজার কর্মী নামিয়েও উত্তরাখণ্ডের বনাগ্নি নেভানো আজ পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। আগুন নেভাতে তাই ভারি বৃষ্টির অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here