artist news

মহানগর ওয়েব ডেস্ক : করোনা আতঙ্কে বন্ধ রয়েছে পৃথিবীর সমস্ত বিখ্যাত জাদুঘর। আর এই সুযোগেই বন্ধ নেদারল্যান্ডের মিউজিয়াম থেকে চুরি গেল শিল্পী ভিনসেন্ট ভ্যান গঘের আঁকা এক বহুমূল্য চিত্র। করোনাভাইরাসের জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বর্তমানে বন্ধ থাকা আমস্টারডামের কাছে সিঙ্গার লারেন জাদুঘর থেকে ৫ মিলিয়ন ইউরো মূল্যের ওই ছবি চুরি হয়ে গিয়েছে। দ্য গার্ডিয়ান সূত্রের খবর, সোমবার ভোর রাত ৩.১৫ নাগাদ লরেনের এই জাদুঘরের সামনের কাঁচের দরজা ভেঙে কেউ বা কারা ভ্যান গগের ‘পার্সোনেজ গার্ডেন অ্যাট নিউনেন ইন স্প্রিং’ ছবিটি চুরি করে নিয়ে যায়। তবে, আশা করা হচ্ছে অন্য কোনও শিল্পদ্রব্য চুরি যায়নি। চুরির সঙ্গে সঙ্গেই বার্গার অ্যালার্ম বাজলেও পুলিশ আধিকারিকরা আসার আগেই চম্পট দেয় দুষ্কৃতী।

এক সাংবাদিক সম্মেলনে জাদুঘরের ডিরেক্টর জ্যান রুডল্ফ ডি লর্ম বলেন যে, গ্রনিঞ্জার মিউজিয়াম থেকে ঋণে নেওয়া হয় ওই চিত্রকর্মটি। সেই বিখ্যাত ছবিটিই চুরি যাওয়ায় তিনি ‘মারাত্মক হতাশ’! ১৬৭ বছর আগে যে দিন জন্মেছিলেন ভ্যান গঘ, অর্থাৎ ৩০ মার্চই চিত্রকর্মটি চুরি গিয়েছে।

news

ডি লর্ম বলেন, “আমাদের অন্যতম সেরা চিত্রশিল্পীর একটি সুন্দর এবং অসামান্য চিত্রকর্ম চুরি গিয়েছে… অবশ্যই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফিরে পেতেই হবে ছবিটি।” করোনাভাইরাস বিস্তার রোধের জাতীয় পদক্ষেপ হিসেবেই ১২ মার্চ জাদুঘরটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে করোনা য় এখনও পর্যন্ত মৃত ৯০০ জন, ও আক্রান্তের সংখ্যা ১২,০০০ ছুঁয়েছে।

উত্তর ডাচ শহর গ্রনিঞ্জেনে অবস্থিত গ্রনিঞ্জার জাদুঘর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে: “১৮৮৪ সালে আঁকা হয় ওই ছবিটি। তেলরঙে আঁকা ওই ছবিটি গ্রনিঞ্জার জাদুঘরের সংগ্রহে থাকা ভ্যান গগের একমাত্র চিত্রকর্ম।
১৮৮৩ থেকে ১৮৮৪ সালের মধ্যে ভ্যান গঘ নিউনেন শহরে শিল্পী বাবা মায়ের সঙ্গে ছিলেন, সেই সময়েই তিনি এই ছবির সিরিজগুলি আঁকেন। সিঙ্গার লরেন জাদুঘরের জেনারেল ম্যানেজার এভার্ট ভ্যান ওস জানান জাদুঘরের সুরক্ষা ব্যবস্থায় আরও কড়া নজর দেওয়া হয়েছে। এক বিবৃতিতে পুলিশের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, জাতীয় অপরাধ তদন্ত বিভাগের বিশেষজ্ঞরা তদন্তে সহায়তা করবেন। চিত্রকর্মটি ইন্টারপোলের চুরি যাওয়া চিত্রকর্মের আন্তর্জাতিক তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।

২০০৭ সালে এই জাদুঘরের সামনের বাগান থেকে ৭টি স্ট্যাচু চুরি যায় যেগুলি পরে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়। ২০১০ সালে দুই দুষ্কৃতী ধরা পড়ে এবং বছর দুই পরে তাদের মুক্তিও দেওয়া হয়। গঘে’র ছবিটি চুরি যাওয়ার ঘটনায় তাদের কোনও হাত আছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here