একদিকে বিরাট, অন্যদিকে রোহিত: দু-ভাগে বিভক্ত ১৩০ কোটির ১১ ভগবান

0
2416

মহানগর ওয়েবডেস্ক: কানাঘুষোটা এতদিন স্ফুলিঙ্গের আকারে ছিল। দল ভালই খেলছিল। তাই সেটা নিয়ে আলোচনাও হয়নি। কিন্তু সেমিফাইলে স্বপ্নভঙ্গের পরই দাবানলের আকার ধারণ করেছে সেই স্ফুলিঙ্গ। শোনা যাচ্ছে, ভারতীয় দল নাকি দুটি শিবিরে ভাগ হয়ে গিয়েছে। সহজ ভাষায় যাকে বলে দলাদলি। একটা দল বিরাটের, আরেকটা রোহিতের। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই রীতিমতো আগুন লেগে গেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের ভিতর।

খুব প্রত্যাশিতভাবেই এ অধিনায়ক বিরাট কোহলির দলই বেশি ভারী। কোহলির সঙ্গে আবার দোসর হিসেবে রয়েছেন কোচ রবি শাস্ত্রী। একটি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এই সূত্র টেনে জানিয়েছে, রবি ও বিরাট জুটির সামনে নাকি অনেকেই বাদ যাওয়ার ভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না। কিন্তু সহ অধিনায়ক রোহিত শর্মা সে দলে নেই। দলে থাকতে পারফর্ম করাই যদি শেষ কথা হয় তবে বিরাটের পরেই নাম আসবে রোহিতের। বিশ্বকাপে রোহিত যেভাবে খেলে দিয়েছেন, তাঁর তুলনায় ৫০ শতাংশ দিতে পারেননি কোহলি। ফলে অধিনায়কের বড় মঞ্চে কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। প্রশ্ন উঠছে রবি শাস্ত্রীকে নিয়েও। যদিও তাঁর মেয়াদ মাস দেড়েকের জন্য বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু শেষ তিন চার বছরে ভারত কেন কোনও বড় ট্রফি জিততে পারছে না এই প্রশ্ন যখনই উঠছে, তখন দলের অন্দরে সৃষ্টি হওয়া এই ফাটলের কথা উঠে আসছে অনেকের মুখে।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের একটা বড় অংশ এ নিয়ে লেখালেখি থেকে নিজেদের বিরত রেখেছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে সে সব বাধ্যবাধকতা নেই। রোহিত ও কোহলির সম্পর্কে ফাটলের কথা সেখানে রীতিমতো বড় করে ছাপা হচ্ছে। দলের অধিনায়ক ও সহ অধিনায়ক যে কখনই গলায় গলায় বন্ধু নয় তা অবশ্য ক্রিকেট প্রেমীদের অনেকদিন ধরেই জানা। বোঝাপড়া ও বনিবনার অভাব সহ অম্ল মধুর সম্পর্ক তাঁদের বহুদিনের। যা বিশ্বকাপের ব্যর্থতার পর মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সূত্র মারফৎ জানা যাচ্ছে, যারা কোহলির গ্রুপে রয়েছেন, দলে তাদের ঠাঁই রোহিতের গ্রুপের ছেলেদের চেয়ে অনেক সহজে মেলে। সঙ্গে শাস্ত্রীর সমর্থনও থাকে। সুপ্রিম কোর্ট দ্বারা নিযুক্ত বিসিসিআই–প্রধান বিনোদ রাইয়ের সঙ্গে কোহলির মতেরও খুব একটা পার্থক্য নেই। আর বিসিসিআইয়ের বাকি তিন প্রশাসকের নাকি দলের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কথা বলার পর্যাপ্ত ক্ষমতাও নেই। এমএসকে প্রসাদের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটিও শাস্ত্রী ও কোহলিকে কোনো ব্যাপারে থামাতে পারছেন না। ফলে কোহলি ও শাস্ত্রী ক্যাম্পের এক কথায় সোনায় সোহাগা অবস্থা। এই দলাদলির কারণেই নাকি বছর দুই আগে অনিল কুম্বলেকে কোচের পদ ছাড়তে হয়েছিল বলেও খবর।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের যে প্রতিবেদনে এই গ্রুপবাজির বিষয়টি প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে এর উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। প্রথমে বিজয় শঙ্কর ও পরে লোকেশ রাহুলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেখানে। বিজয় শঙ্কর যতদিন খেলছিলেন, দলে তাঁর কী ভূমিকা ছিল স্পষ্ট হয়নি। অথচ চোট পাওয়ার আগে পর্যন্ত তিনি খেলেই যাচ্ছিলেন। তাঁর জায়গাতেও উড়িয়ে আনা আনকোরা ময়ঙ্ক আগরওয়ালকে। যার একটাও ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা নেই। অথচ ইংল্যান্ডেই বসে থাকা অজিঙ্কা রাহানে বা ভারতের হয়ে নিয়মিত চার নম্বরে ব্যাট করা আম্বাতি রাইডুকে ডাকা হয় না। যারা সরাসরি রোহিতের লবির লোক বলেই ডাকা হয়নি বলে দাবি ওই সংবাদ মাধ্যমের। রাইডু তো বেচারা অভিমানে খেলা ছেড়ে দেওয়ার কথাই ঘোষণা করে দিলেন। লোকেশ রাহুলের বিষয়ে বলা হয়েছে, তিনি যতই ব্যর্থ হন না কেন, তাঁকে কোহলি তাঁকে সুযোগ দিয়েই যাবেনই। আবার জাদেজার মতো কিছু খেলোয়াড় বল, ব্যাট হাতে পারফর্ম ও দুর্দান্ত ফিল্ডিং করলেও তাঁর আগে দলে বাছা হবে বিজয় শঙ্করকে। কারণ তিনি কোহলির দলের লোক।

তালিকা এখনও বাকি আছে। মনে করে দেখুন, কুলদীপ যাদব ও যুজবেন্দ্র চাহালের মধ্যে যে স্পিনারই বাজে পারফর্ম করুক না কেন, একাদশ থেকে বাদ পড়তে হয় কুলদীপকে। কেন? কারণ তিনি খেলেন কেকেআর-এ। অন্যদিকে চাহাল আরসিবির সদস্য হওয়ায় বিরাটের বেশি ঘনিষ্ঠ তিনিই। তাই চাহালকে কখনও বাদ পড়তে হয় না।

তবে এই সব রাজনীতিই দলের অন্দরে বহুদিন ধরে চলে আসছে। কাপের দোরগোড়ায় গিয়ে স্বপ্নভঙ্গ হওয়ায় এখন আলোচনায় উঠে এসেছে এই প্রসঙ্গ। ভারত যদি ফাইনালে গিয়ে কাপ জিতে ফিরত, তখন হয়তো রোহিত-কোহলির বন্ধুত্ব বা কুল-চা জুটির সাফল্য নিয়ে প্রতিবেদন লিখতে হতো। ক্রিকেট খেলাটাই আসলে এতটাই মহান, এতটাই অনিশ্চয়তার। যেখানে ব্যর্থ হলে ১৩০ কোটির ১১ ভগবানকে নিয়ে সমালোচনা করতে হয়। আবার তারাই কাপ এনে দিলে মাথায় তুলে নাচতে হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here