ডেস্ক: সালটা নিঃসন্দেহে ২০১৮। কিন্তু ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের ডঙ্কা এখন থেকেই বাজতে শুরু করে দিয়েছে। সেই হেভিওয়েট নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই রণনীতির জাল বুনছে প্রত্যেক রাজনৈতিক দল। স্বাধীন ভারতের গণতন্ত্রের এই বৃহত্তম যুদ্ধে একদিকে থাকবেন নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের জুটি। অন্যদিকে তাদের পরাস্ত করার চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নামবে বাকি আঞ্চলিক ও বিরোধী শক্তিগুলি। কিন্তু এরই মধ্যে এমন এক চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে যা গেরুয়া শিবিরের শিরদাঁড়া বেয়ে আশঙ্কার চোরা স্রোত নামিয়ে দিতে পারে।

২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে যে মোদী ঝড় উঠেছিল, তার জেরে কার্যত ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যায় বিরোধীরা। কিন্তু সমীক্ষা বলছে, তারপর থেকে যতগুলি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে, প্রত্যেকটি রাজ্যে ২০১৪ নির্বাচনের তুলনায় ভোট শতাংশ ব্যাপক হারে কমেছে বিজেপির। এক থেকে দুটি রাজ্যে এর ব্যাতিক্রম হলেও, বেশিরভাগ রাজ্যেই ভোটের শতাংশ কমেছে বিজেপির। আর এই তথ্য সামনে আসার পরই নতুন করে লোকসভা নির্বাচনের আকাশে সিঁদুরে মেঘ দেখতে শুরু করেছে বিজেপি।

একনজরে দেখে নিন কোন রাজ্যে কত শতাংশ ভোট কম হয়েছে বিজেপির…

অসম- ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর ২০১৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবার অসমে ক্ষমতায় আসে বিজেপি। কিন্তু ২০১৪ সালের তুলনায় অনেকটাই কমে যায় ভোট। ২০১৪ সালে যেখানে ৩৬.৮৬ শতাংশ ভোট বিজেপি পেয়েছিল, সেখানে ২০১৫ সালে তা কমে ২৯.৫ শতাংশে দাঁড়ায়।

বিহার- বিহারের অংক অবশ্য কখনই বাকি রাজ্যগুলির মতো সরল নয়। তবে শতকরা ভোটের হার কম হওয়া সেখানেও চিন্তার কারণ বিজেপির জন্য। ২০১৪ লোকসভার তুলনায় ৫ শতাংশ ভোট বিধানসভা নির্বাচনে কমে যায় বিজেপি। ২৯.৮৬-২৪.৪২ শতাংশে কমে যায় বিজেপির ভোট।

গোয়া- পর্যটনের জন্য সমাদৃত এই রাজ্যে বিজেপির পতন এক কথায় অপ্রত্যাশিত। লোকসভা নির্বাচনে যে বিজেপি ৫৪.১২ শতাংশ ভোট পেয়েছিল, বিধানসভা নির্বাচনে সেই শতাংশ কমে যায় ৩২.৪৮ শতাংশে।

গুজরাত- খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজ্য গুজরাত। সেখানে চলতি বছরে বিজেপির জয় হলেও ভোট শতাংশের হ্রাস চমকপ্রদ। ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ কমে যায় বিজেপির ভোট। ৬০.১১ থেকে কমে তা দাঁড়ায় ৪৯.০৫ শতাংশে।

হিমাচল প্রদেশ- ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় হরিয়ানাতে ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে বিজেপির ভোট। ৫৩.৮৫ থেকে কমে ৪৮.৭৯ শতাংশে চলে আসে বিধানসভা নির্বাচনের ভোট।

জম্মু কাশ্মীর- সদ্য সেখানে পিডিপির সঙ্গে জোট ভেঙে দিয়েছে বিজেপি। কিন্তু ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় বিধানসভাতে ১০ শতাংশ ভোট ক্ষয় হয়েছিল বিজেপির। ২০১৪তে ৩২.৬৫ শতাংশ ভোট থাকলেও বিধানসভায় তা ২২.৯৮ শতাংশে কমে যায়।

কর্ণাটক- মাসখানেক আগে হওয়া কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনের দিকে নজর ছিল পুরো দেশের। দেখা গিয়েছে, এই দক্ষিনী রাজ্যে ২০১৪ সালে যেখানে ৪৩.৩৭ শতাংশ ভোট বিজেপির ঝুলিতে ছিল, চলতি বছর বিধানসভায় তা ৩৬ শতাংশে নেমে আসে।

উত্তরপ্রদেশ- খোদ যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যের দৃশ্যটাও গেরুয়া শিবিরের মন খারাপ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে সেখানে বিজেপি পেয়েছিল ৪২.৬৩ শতাংশ ভোট। কিন্তু ২০১৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তা কমে যায় ৩৯.৬৭ শতাংশে।

এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গে ২০১৪র তুলনায় ২০১৬ সালে ৭ শতাংশ ভোট কমে বিজেপির। একই সঙ্গে পড়শি রাজ্য ঝাড়খণ্ডেও একই অবস্থা। সেখানে লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় বিধানসভায় ৯ শতাংশ ভোট কমে বিজেপির। বিপর্যয়ের তালিকা আরও বড় রয়েছে গেরুয়াদের। উত্তরাখণ্ড সহ দিল্লিতে ৯ শতাংশ ও ১৪ শতাংশ ভোটের ক্ষয় হয়েছে বিজেপির। ভোটের শতকরা হার কমেছে পঞ্জাবেও।

এই রাজ্যগুলিতে বিজেপির লোকসান হলেও এমন কিছু রাজ্য রয়েছে যেখানে ভোট শতাংশ বেড়েছে গেরুয়াদের। সেই রাজ্যগুলির মধ্যে অন্যতম কেরল এবং মহারাষ্ট্র। এছাড়াও পূর্ব ভারতে ত্রিপুরা বিধানসভা জয়লাভ করে সেখানে ভোটের হার বাড়াতে সক্ষম হয় বিজেপি। কিন্তু দেশজুড়ে বড় রাজ্যগুলিতে বিজেপির ভোট যেভাবে কমছে, তাতে ২০১৯ লোকসভার আগে মোদী-শাহ জুটি যে খুব একটা শান্তিতে থাকবে না, তা এখন থেকেই বলে দেওয়া যায়।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here