offbeat news
Highlights

  •  ভজরজদেনিয়া- উজবেকিস্তান ও কাজাখস্তানের সীমান্তে অবস্থিত একটা ছোট্ট দ্বীপ
  • আরল সাগরের বুকে অবস্থিত এই দ্বীপ
  • আজও সেখানে যেতে ভয় পান সাধারণ মানুষ

মহানগর ওয়েবডেস্ক: ভজরজদেনিয়া- উজবেকিস্তান ও কাজাখস্তানের সীমান্তে অবস্থিত একটা ছোট্ট দ্বীপ। একটা সময় পৃথিবীর অন্যতম বড় হ্রদ আরল সাগরের বুকে অবস্থিত এই দ্বীপ। এখন অবশ্য আরল সাগর প্রায় শুকিয়ে গিয়েছে। ফলে ভজরজদেনিয়ার মতো আরল সাগরের বুকে জেগে থাকা আরও কয়েকশো দ্বীপও এখন মরুভূমিতে পরিণত। আর এই ভজরজদেনিয়া দ্বীপকেই আজ পৃথিবীর ভয়ঙ্করতম দ্বীপ হিসেবে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। সেই দ্বীপের ত্রাস এমনই, আজও সেখানে যেতে ভয় পান সাধারণ মানুষ।

কিন্তু কেন এত ভয়? কোনও হিংস্র প্রাগৈতিহাসিক জীবের কি বাস ওই দ্বীপে? না, প্রায় মরুভূমিতে পরিণত হওয়া ওই দ্বীপে কোনও হিংস্র জীব নেই। তাহলে, ভয় কীসের? ভয়টা রাসায়নিক প্রক্রিয়ার। রাশিয়ার চেরনোবিলে যেমন পারমাণবিক গবেষণাগারে বিস্ফোরণের ফলে শহরটাই পরিণত হয়েছিল ভূতুড়ে শহরে। রাসায়নিক বিক্রিয়ায় মারা গিয়েছিলেন বহু মানুষ। ঠিক তেমনই ভয় এই ভজরজদেনিয়া দ্বীপে।

Image result for Vozrozhdeniya

একটা সময় এই দ্বীপে গোপনে রাসায়নিক ও জৈব-ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষানিরীক্ষা করত সোভিয়েত ইউনিয়ন। সোভিয়েত সেখানে গোপন অস্ত্রাগার গড়ে তোলার আগে ওই দ্বীপ বেশ শস্যশ্যামল ছিল। কিন্তু সোভিয়েতের ওই দ্বীপে জৈব-ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষানিরীক্ষা চালানোর সময় ঘটে যায় বিপর্যয়। অ্যান্থ্রাক্স, স্মল পক্স, বিউবনিক প্লেগের মতো জীবাণু ছড়িয়ে পরে নিমেশে। মারা যান ওই দ্বীপে কর্মরত বেশ কয়েকজন সোভিয়েত বিজ্ঞানী। আর তারপরেই ১৯৯১ সালে পুরোপুরি ভাবে ওই দ্বীপ বন্ধ করে দেয় সেদেশের প্রশাসন।

Comparison of Aral Sea in 1989 (left) and 2008 (right)

২০০৫ সালে ওই দ্বীপে গিয়েছিলেন নিক মিডল্টন নামে এক লেখক। সেখান থেকে ঘুরে এসে এক সংবাদপত্রে গোটা দ্বীপের বর্ণনা দিয়েছিলেন তিনি। ১৯৫৪ সালে ওই দ্বীপে প্রথম বসতি গড়ে তোলা হয়। মূলত গোপনে সোভিয়েত উইনিয়ন সেখানে ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা যাতে চালাতে পারে ও গবেষণা করতে পারে, তাই ওই ভজরজদেনিয়া দ্বীপে ছোটখাটো শহর গড়ে তোলা হয়। সেখানে থাকতেন গবেষক ও তাদের পরিবারের লোকেরা। এতই গোপনে সেইসব পরীক্ষানিরীক্ষা হত যে কোনও ম্যাপে পর্যন্ত ওই দ্বীপের উল্লেখ নেই।

Image result for Vozrozhdeniya

নিক ওই দ্বীপে অবশ্য আপাদমস্তক প্রোটেক্টিভ জাম্পসুট পরেই গিয়েছিলেন। সেখানের পরিবেশে এখনও প্লেগ, অ্যান্থ্রাক্স, কিউ ফিভার, এনকেফালাইটিস সহ আরও অনেক ভয়ঙ্কর রোগের ভাইরাসের উপস্থিতির প্রমাণ পান। আর দেখতে পান কয়েকশো জাহাজের কঙ্কাল। সোভিয়েত বসতি গড়ে ওঠার আগে ওই দ্বীপে ছিল জেলেদের বাস। তাই ওই জেলেদের নৌকার ভগ্নস্তূপ যেমন ছিল, তেমন ছিল সোভিয়েত যুদ্ধ জাহাজের কঙ্কালও। গোটা দ্বীপটাই যেন ভৌতিক কোনও শহর। বাড়ি ঘর, স্কুল, মিলিটারি বেসক্যাম্প সব আছে, ভগ্ন অবস্থায়। নেই শুধু কোনও জনমানবের চিহ্ন। আসলে প্রথম যখন ভয়ঙ্কর রোগের জীবাণুগুলি ছড়িয়ে পড়েছিল, তখন রাতারাতি এই দ্বীপ ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। ফলে এখন কার্যত ভৌতিক দ্বীপ ভজরজদেনিয়া ও তার প্রধান শহর Aralsk-7। আজও দ্বীপের বাতাসে, মরুভূমির বালিতে ছেয়ে আছে মারণ ভাইরাস। সেখানের খোলা বায়ুতে শ্বাস নিলে মৃত্যু অবধারিত। তাই আজও পৃথিবীর ভয়ঙ্করতম দ্বীপের তকমা নিয়ে ভূতের মতো অতীতের ভয়াবহ দুর্ঘটনার সাক্ষী বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে ভজরজদেনিয়া দ্বীপ।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here