ডেস্ক: শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা, দেশ যখন ঘুমোয় ওরা অতন্দ্র পাহাড়ায় থাকে সারা বছর৷ ভারত হোক কিংবা পাকিস্তান, দুই দেশের সেনা জওয়ানরা মাতৃভূমির প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে সীমান্তে নিজেদের কর্তৃব্য পালনে ব্রতী৷ তাই উৎসবের দিনগুলিতেও পরিবার-পরিজনকে ছেড়ে কাটাতে হয় কাঁটাতারকে সঙ্গী করেই৷ এভাবেই চলে আসছে দশকের পর দশক৷ দু’দেশের সম্পর্কের তিক্ততা এবং ছায়াযুদ্ধের মধ্যেও একে অপরকে আপন করে নেয় দু’দেশের জওয়ানরা৷ তাই রাষ্ট্র-কূটনীতি-রাজনীতির বেড়াজাল টপকে উৎসবের দিনগুলিতে সৌজন্য বিনিময় করে থাকে প্রতিবেশি দুই দেশের জওয়ানরা৷ দেওয়ালি হোক কিংবা পবিত্র ইদ, গোলাগুলি ছেড়ে সৌজন্যের বাতাবরণে মোড়া থাকে সীমান্ত৷ হয় মিষ্টি বিনিময়৷ কিন্তু এবার ব্যতিক্রম৷ খুশির ইদের ছোঁয়া কাঁটাতাড়কে উপড়ে ফেলতে পারল না৷ ভারত-পাক সম্পর্কে তিক্ততা এতটাই গাঢ় হয়েছে, যে ওয়াঘা-আটারি সীমান্তে মিষ্টি বিনিময় করল না দুই দেশের সেনা জওয়ানরা৷

সেনাবাহিনী সূত্রে খবর, সম্প্রতি সীমান্তগুলিতে পাকিস্তান যেভাবে সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করছে, তাতে প্রতিদিনই প্রাণ হারাচ্ছে ভারতীয় জওয়ানরা৷ কিছুদিন আগেই পাক রেঞ্জার্সের গুলিতে বিকাশ গুরুং নামে এক সেনা জওয়ান শহিদ হয়েছেন। পাকিস্তান এতটাই প্রহিংসা পরায়ণ হয়ে উঠেছে, যেখানে ইদের নমাজকে তোয়াক্কা না করেই পাক রেঞ্জার্সরা সীমান্তে গোলা-গুলিতে মেতে উঠেছে৷ শুধুমাত্র চলতি বছরেই হাজারবারের বেশি সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করেছে পাক বাহিনী।

ইদ উৎসবকে পিছনে ফেলে কাশ্মীর সীমান্তও উন্মত্ত হয়ে উঠেছে জেহাদিরা৷ ইদের দিনেও অশান্তির হাত থেকে ছাড় নেই উপত্যকার। ইদের নমাজ শেষ হতে না হতেই নিরাপত্তা বাহিনীর উপর পাথর হামলা হয়েছে শ্রীনগরে। আইএস-এর পতাকা তোলা হয়েছে। বিক্ষোভ সরগরম ভূ-স্বর্গ। যদিও ইদে ১১৫ জন বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার কথা ঘোযণা করেছে জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন। কিন্তু শান্তির লেশমাত্র নেই জম্মু-কাশ্মীরে৷

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here