news bengali

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: করোনা আবহের মধ্যে আমফান পরবর্তী পরিস্থিতি থেকে এখন ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি রাজ্য। যদিও এই সঙ্গিন পরিস্থিতির মধ্যেও সরগরম রাজনীতি। কখনও ‘পকেটমারি’র অভিযোগ তো কখনও পাগল বলে কটাক্ষ, রাজনীতির ময়দানে এ এখন নিত্যদিনকার ঘটনা। মঙ্গলবারও বজায় থাকলেও সেই ধারা। এবার পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের কটাক্ষের তিরে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ।
এদিন ববি বললেন, ‘দিলীপ ঘোষের মাথার ঠিক নেই। কী বলেন কেউ জানে না।’ অন্যদিকে, চুপ করে থাকেননি রাজ্য বিজেপি সভাপতিও। তথ্য চাপা দেওয়া হচ্ছে, তার দায় যে রাজ্য সরকারকেই নিতে হবে তাই এদিন স্পষ্ট করে দেন দিলীপ ঘোষ।

প্রথম থেকেই বঙ্গ বিজেপির অভিযোগ ছিল, কেন্দ্রের টাকা নয়ছয় করছে রাজ্য। সঠিক খাতে, সঠিক খরচ হচ্ছে না। এমনকি নির্দিষ্ট খাতে পর্যাপ্ত টাকা খরচ করছে না কলকাতা পুরসভা। এবিষয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখবেন বলেও জানান। এদিকে দিলীপ ঘোষের এই অভিযোগ শুনে বেজায় চটে যান পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। রাজ্য বিজেপির সভাপতির এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে পাল্টা কটাক্ষ ছুড়ে দেন মন্ত্রী।

এদিন ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘দিলীপ ঘোষের মাথার ঠিক নেই। কী বলেন কেউ জানে না। সরকারি কাজের হিসেব দিতে পারছে না বলে কিছু হয় না। একজন অডিটর জেনারেল থাকেন। সেই অডিটর জেনারেল কেন্দ্রে নিয়োগ করে। সুতরাং রাজ্য হিসেব দিতে পারল না আর অডিটর জেনারেল চুপ করে বসে থাকল এটা নিশ্চয়ই হয় না। অডিটর জেনারেল এর কাছে সমস্ত হিসেব যায়। সুতরাং এই কথাটা বলছেন সেটা সম্পূর্ণ পলিটিকাল গেম।’

নির্দিষ্ট বিষয়টি নিয়ে সাফাই দিয়ে এদিন মন্ত্রী জানান, ‘তৃণমূল সরকার আসার পরে এই ব্যবস্থা আরও কঠোর হয়েছে। এই সরকারের আমলেই ই-গভর্নেন্স হয়েছে। কী খাতে কত টাকা খরচ হচ্ছে তার সমস্ত কিছুই এখন ই প্রসেসের মাধ্যমে হিসেব রাখা হয়। খাতায় কলমে নয়। এই ই-প্রসেসর জন্য যে পোর্টালটি আছে সেটাও কেন্দ্রের নিয়োগ করা অডিট জেনারেলের আন্ডারে।’ এরপরই দিলীপ ঘোষকে কটাক্ষ করে ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘আসলে ওনারা ঘোলা জলে মাছ ধরতে চাইছেন। তবে ঘোলা জলে মাছ ধরলে সেই মাছ যে ফসকে যায় একথা ওনারা জানেন না।’

অন্যদিকে, মন্ত্রীর এই সাফাইকে মানতে নারাজ রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। মন্ত্রীর বক্তব্যের পাল্টা দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, ‘তাদের ওয়েবসাইট দেখেই আমরা বলছি। তাদেরকেই বারবার মুখ ঝামটা খেতে হয়। কী খাতে কত টাকা খরচ হচ্ছে মানুষের কাছে সেই তথ্য দিচ্ছেন না। যা খুশি একটা মুখে বলে দিলেই হয়ে গেল না। এতে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।’

করোনা পরিস্থিতিই হোক কিংবা ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পরিস্থিতি, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দায় এড়াতে চাইছে সরকার। এমনকি কেন্দ্রীয় অনুদান সঠিক খাতে খরচ হচ্ছে না, এই অভিযোগে অনেকদিন ধরেই সরব হয়েছে বঙ্গ বিজেপি। এই গোটা বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি। কেন্দ্রীয় সরকারের অনুদান যেন ঠিক খাতে ব্যবহার হয়। তার জন্যই অনুদান যেন সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়, এই আবেদনও চিঠিতে উল্লেখ করা হবে বলে জানিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here