kolkata bengali news
মহানগর ওয়েবডেস্ক:লকডাউনের ফলে ভিন রাজ্যে আটকে পড়া শ্রমিকদের রাজ্যে ফেরানোর ব্যপারে উদাসীন পশ্চিমবঙ্গের সরকার।পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরাতে রাজ্য সরকারের উদ্যোগের অভাবে ক্ষোভ করে এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
 করোনা সংক্রমণ আটকাতে গত ২৪ মার্চ থেকে দেশে লকডাউন ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় সরকার। দেশজুড়ে লকডাউনের কারণে গণপরিবহণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অসংখ্য পরিযায়ী শ্রমিক ও ভিনরাজ্যের বাসিন্দারা বিভিন্ন জায়গায় আটকে পড়েন।সরকার ওই দুর্দশাগ্রস্তদের ফেরাতেই গত ১ মে থেকে শ্রমিক ট্রেন চালু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ওই বিশেষ ট্রেন চালিয়ে বিভিন্ন রাজ্যে আটকে পড়া মানুষজনকে তাঁদের নিজেদের রাজ্যে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে কেন্দ্র জানিয়েছে, রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের পারস্পরিক সহযোগিতায় ওই আয়োজন করা হয়েছে।
পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিবহণের জন্য পরিচালিত বিশেষ ট্রেনের ক্ষেত্রে রেলের ভাড়া বাবদ ৮৫ শতাংশ ভর্তুকি দেবে কেন্দ্র এবং বাকি ১৫ শতাংশ রাজ্য সরকারগুলোকে দিতে হবে বলে স্থির করা হয়েছে। সেই প্রস্তাবে সায় দিয়েই বিভিন্ন রাজ্যের সরকার তাঁদের বাসিন্দাদের ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিলেও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে মাত্র দুটো ট্রেনের ব্যবস্থা করা ছাড়া আর তেমন কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ কেন্দ্রের। শনিবার এই বিষয় নিয়ে এদিন মমতাকে চিঠি দিয়েছেন শাহ।
ওই চিঠিতে অমিত শাহ বলেছেন, কেন্দ্র আটকে পড়া পরিযায়ী শ্রমিকদের নিজেদের রাজ্যে ফেরানোর বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের থেকে প্রত্যাশিত ভাবে সমর্থন পাচ্ছে না। রাজ্য সরকারের কারণেই ভারতীয় রেল পরিচালিত বিশেষ “শ্রমিক ট্রেন” সে রাজ্যে পৌঁছতে পারছে না,বলেও অভিযোগও তুলেছেন তিনি। শাহ চিঠিতে লিখেছেন, ” আমরা পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রত্যাশিত সমর্থন পাচ্ছি না। রাজ্য সরকার ট্রেনগুলোকে পৌঁছতে দিচ্ছে না। এটা পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রতি অবিচার করা হচ্ছে। এর ফলে আরও দুর্দশার মধ্যে পড়তে হচ্ছে বাংলার শ্রমিকদের”।
এদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাোষ্ট্রমন্ত্রীর  এই চিঠি পাওয়ার পরে রাজনৈতিক চাপান উতোর শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনের অন্দরেও তত্পরতা শুরু হয়ে যায়। নবান্নের তরফে তড়িঘড়ি বিভিন্ন রাজ্যে আটকে থাকা পরিযায়ী শ্রমিক ,তীর্থযাত্রী, পর্যটক ও ছাত্র দের ফিরিয়ে আনতে আরও দশটি ট্রেনের রিকুইজিশন দেওয়া হয় রেল মন্ত্রককে । স্বরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন নবান্নে জানান,  ‘এরমধ্যে কর্নাটকের ব্যাঙ্গালোর থেকে তিনটি এবং হায়দ্রাবাদ থেকে একটি ট্রেন ছাড়বে।বাইরে আটকে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে ফিরিয়ে আনতে আরও  আটটি ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে ।ওই ট্রেনে প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিককে রাজ্যে ফেরানো হবে ।’ ট্রেনগুলি কোথা থেকে কতজন শ্রমিককে নিয়ে কোথায় ফিরবে, তা জানিয়ে রেল মন্ত্রকে রাজ্যে সরকারের তরফে তালিকা পাঠানো হয়েছে।এই সব বিশেয ট্রেনে মূলত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আটকে থাকা উত্তরবঙ্গ এবং জঙ্গলমহলের শ্রমিকদেরপেরত আনা হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
আটটি ট্রেন ছাড়বে যথাক্রমে চণ্ডীগড়, জলন্ধর, বেঙ্গালুরু, ভেলোর ও হায়দরাবাদ স্টেশন থেকে। এই আটটি স্পেশাল ট্রেন ৯ মে, ১০ মে এবং ১১ মে রওনা হবে।। প্রথম ট্রেনটি বেঙ্গালুরু থেকে এসে পৌঁছবে বাঁকুড়ায়। সেখানে ঝাড়গ্রাম এবং বাঁকুড়ার ১৮০০র বেশি শ্রমিক ফিরবেন। দ্বিতীয় ট্রেন বেঙ্গালুরু থেকে নিউ জলপাইগুড়ি আসবে। এই ট্রেনে ফিরবেন চার জেলা – আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, কোচবিহার ও কালিম্পংয়ের প্রায় ৩৮০০ জন শ্রমিক। বেঙ্গালুরু থেক থেকে পুরুলিয়াগামী তৃতীয় ট্রেনটি ফিরবে পুরুলিয়া, বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমানের হাজার দুয়েক শ্রমিককে নিয়ে।পরেরদিন ১০ মে জলন্ধর থেকে একটি ট্রেন ব্যান্ডেলে আসবে। তাতে ফিরবেন হুগলি ও নদিয়ার ১৩০০ জন। ১১ তারিখ তিনটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তার মধ্যে দুটি ট্রেন ফেরাবে ভেলোরে চিকিৎসা করতে গিয়ে আটকে পড়া এ রাজ্যের বাসিন্দাদের। ভেলোর থেকে একটি ট্রেন হাওড়ায় আসবে বর্ধমান, উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দাদের নিয়ে। আরেকটি ট্রেন ফিরবে খড়গপুরে। তাতে পূ্র্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, হুগলি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দাদের ফেরানো হবে। একইদিনে আরেকটি ট্রেন চণ্ডীগড় থেকে দুর্গাপুরে আসছে। তাতে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমানের বাসিন্দারা ফিরবেন।
এদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর চিঠির কথা প্রকাশ্যে আসতেই আসরে নামে বিজেপি।ভিন রাজ্যে আটকে পড়া পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরাতে রাজ্য সরকারের কোন সদিচ্ছা নেই বলে অভিয়োগ করেন দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।তিনি বলেন,‘এই বিষয় নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব এবং স্বাস্থ্য সচিব চিঠি দেওয়া সত্ত্বেও রাজ্য সরকার কোন গুরুত্ব দেয়নি। তাই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজ এবিষয়ে আবারও রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়েছে।অন্যান্য রাজ্য পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরাতে কেন্দ্রের কাছে বিশেষ ট্রেন চালাবার অনুরোধ জানিয়েছে ।এরাজ্য কোন উদ্যোগ নেয়নি। শুধুমাত্র আজমের শরীফ থেকে বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষদের ফেরানোর ব্যবস্থা করেছে।’ এছাড়া এরাজ্যের যেসব মানুষ প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ ব্যবসা-বানিজ্যের কাজে গিয়ে আটকে পড়েছেন তাদের ফেরাতেও রাজ্য সরকার কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে দীলিপবাবুর আরও অভিযোগ।

এদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর চিঠির কথা প্রকাশ্যে আসতেই আসরে নামে বিজেপি।ভিন রাজ্যে আটকে পড়া পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরাতে রাজ্য সরকারের কোন সদিচ্ছা নেই বলে অভিয়োগ করেন দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।তিনি বলেন,‘এই বিষয় নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব এবং স্বাস্থ্য সচিব চিঠি দেওয়া সত্ত্বেও রাজ্য সরকার কোন গুরুত্ব দেয়নি। তাই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজ এবিষয়ে আবারও রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়েছে।অন্যান্য রাজ্য পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরাতে কেন্দ্রের কাছে বিশেষ ট্রেন চালাবার অনুরোধ জানিয়েছে ।এরাজ্য কোন উদ্যোগ নেয়নি। শুধুমাত্র আজমের শরীফ থেকে বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষদের ফেরানোর ব্যবস্থা করেছে।’ এছাড়া এরাজ্যের যেসব মানুষ প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ ব্যবসা-বানিজ্যের কাজে গিয়ে আটকে পড়েছেন তাদের ফেরাতেও রাজ্য সরকার কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে দীলিপবাবুর আরও অভিযোগ।
কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কে পশ্চিমবঙ্গের দুরবস্থার কথা জানানোর পর, উনি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী কে চিঠি দেন, যারফলে আরও আট টি ট্রেন মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যে ঢোকার অনুমতি দিয়েছেন, কিন্তু যে পরিমাণ পরিযায়ী বাইরে আছেন, সে তুলনায় আট ট্রেন কিছুই নয়।আরও ট্রেনের দাবি করছি।’
রাজ্য বিধানসভার বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী অবিলম্বে কেন্দ্র – রাজ্য তরজা বন্ধ করে ভিন রাজ্যে আটকে থাকা পরিযায়ী শ্রমিক সহ সমস্ত মানুষ কে এরাজ্যে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।তাঁর অভিযোগ পরিযায়ী শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রের মত রাজ্য সরকার ও রাজনীতি করতে চাইছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here