kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, কলকাতা: করোনা ভাইরাসের প্রকোপ থেকে এখনো ‘সেফ জোনে’ আছে শহর কলকাতা। শহরে এখনও পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কোনো রোগী পাওয়া যায়নি। এই ভাইরাস মোকাবিলা করার জন্য যা যা পদক্ষেপ নেওয়া দরকার তা ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে। বুধবার এমনটাই স্পষ্ট করেন ডেপুটি মেয়র তথা মেয়র পারিষদ স্বাস্থ্য অতীন ঘোষ। অন্যদিকে, কলকাতায় দ্রুত করোনা ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে বলে এদিন প্রচার চালানো হয় রাজ্য বিজেপির তরফ থেকে। তবে এই প্রচারের যে কোনো যৌক্তিকতা নেই তা এদিন স্পষ্ট করে দেন অতীন ঘোষ।

এদিন স্বাস্থ্য পারিষদ অতীন ঘোষ জানান, চিনা ভাইরাস করোনা যাতে এই রাজ্যে প্রবেশ করতে না পারে সে বিষয়ে ইতিমধ্যেই তৎপর হয়েছে রাজ্য সরকার। কলকাতা পুরসভার আওতায় থাকা স্বাস্থ্য দফতর গুলোকে জরুরী ভিত্তিতে সর্তকতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। করোনা ভাইরাসের যে সমস্ত প্রাথমিক লক্ষণ রয়েছে সেই সমস্ত লক্ষণ নিয়ে যদি কোনো রোগী আসে, সে ক্ষেত্রে হায়ার অথরিটিকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য দফতর গুলোকে। চিকিৎসার পরেও যদি রোগী অবনতির দিকে যায় সেক্ষেত্রে কলকাতা পুরসভার তরফ থেকে সেই রোগীর নাম ঠিকানা পাঠানো হবে রাজ্য সরকারের কাছে। এর পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে যা ব্যবস্থা গ্রহণ করার রাজ্য সরকারই করবে।

এদিকে এদিন সকাল থেকেই করোনা ভাইরাস নিয়ে প্রচার চলে রাজ্য বিজেপির তরফ থেকে। দলের তরফ থেকে জনসাধারণের মধ্যে চলে মাস্ক বিতরণ। সেই প্রচারে বলা হয় যে, ইতিমধ্যেই করোনা প্রবেশ করেছে ভারতবর্ষে। কলকাতাতেও শীঘ্রই প্রবেশ করতে পারে করোনা ভাইরাস, তাই মাস্ক ব্যবহার করুন। যদিও কলকাতায় করোনা ভাইরাস প্রবেশ করার কোনও আশঙ্কাই নেই বলে এদিন মন্তব্য করেন অতীন ঘোষ। তার কথায়, ‘ভারতবর্ষে এখনও পর্যন্ত যে সমস্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গিয়েছে তারা বাইরে থেকে এসেছেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের কথায়, বর্তমানে ভারতবর্ষের আবহাওয়া করোনা ভাইরাসের প্রতিকূল। এই নিয়ে অযথা ভয়ের কিছু নেই। দূষণের থেকে বাঁচতে মানুষ মাস্ক পরতেই পারেন। তবে করোনা কলকাতায় প্রবেশ করবে এই প্রচার সম্পূর্ণ ভ্রান্ত।’ অতীন বাবাবুর কথায়, ‘এই ধরনের একটি স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে রাজনীতি না করাই বাঞ্ছনীয়। কিন্তু পুরভোটের আগে বিজেপির কাছে কোনো ইস্যু নেই, তাই তারা করোনাটাই হাতিয়ার করতে চাইছে।’

প্রসঙ্গত, কার্যত লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। শুধু চিনেই এই ভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে 200 ছাড়িয়েছে অনেক দিন আগেই। ভারত ও চিন সহ বিশ্বের ২১টি দেশজুড়ে দাপট দেখাচ্ছে করোনা ভাইরাস। ইতিমধ্যেই চিন থেকে ভারতে ফিরে আসা ওই ব্যক্তিদের আগামী ২৮দিন পর্যবেক্ষণে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সন্দেহভাজনদের নমুনা পুনে ন্যাশনাল ভাইরোলজি ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হচ্ছিল এতদিন। এবার এই কাজটি সম্পন্ন হবে কলকাতার ল্যাবরেটরিতেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here