ফাইনালে ছেলে বেন স্টোকসের হার দেখতে চান ‘কিউয়ি’ বাবা

0
601

মহানগর ওয়েবডেস্ক: চল্লিশ বছর আগে নিজের মাটিতে একদিবসীয় ক্রিকেটের ফাইনাল খেলেছিল ইংরেজরা৷ সেবার তাদের ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারতে হয়েছিল৷ আর এবার? পারবে কি কিউয়ি বধ করতে? আর কিছুক্ষণ অপেক্ষা৷ এর আগে ১৯৭৯, ১৯৮৭, ১৯৯২তে ফাইনাল খেলেছিল ইংরেজরা৷ অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কার পর ক্রিকেট বিশ্বকাপে পর পর দু’বার ফাইনাল খেলছে নিউজিল্যান্ড৷ অথচ একটা সময় ছিল তাদের সেমিফাইনালে পৌঁছানোই কঠিন হয়ে পড়েছিল৷ একই অবস্থা ছিল ইংল্যান্ডেরও৷ বিশ্বকাপ ইতিহাসে এমন নজির আর নেই৷ ইংল্যান্ড সবচেয়ে বেশিবার এই বিশ্বকাপের আয়োজন করেছে৷ ১৯৭৫, ১৯৭৯, ১৯৮৩, ১৯৯৯ এবং ২০১৯৷ এই বিশ্বকাপ ফের নতুন চ্যাম্পিয়ন দেশ পাবেই৷ তবে ইংল্যান্ড দলের নির্ভরযোগ্য অলরাউন্ডার বেন স্টোকসের বাবা মনেপ্রাণে চান তাঁর ছেলের দল ফাইনালে হেরে যাক৷ কিন্তু কেন?

বেনের বাবা জেরার্ড স্টোকস নিউজিল্যান্ডের বাসিন্দা৷ এমনকী বেনের নিজের জন্মভূমিও নিউজিল্যান্ড৷ জেরার্ড আবার কিউয়ি বেসবল জাতীয় দলের প্রতিনিধ ছিলেন৷ তবে খেলয়াড়ের চেয়েও বেসবল কোচ হিসাবে তিনি বেশি বিখ্যাত৷ বিভিন্ন জায়গায় কোচিং করিয়ে সাফল্য পেয়েছিলেন৷ অবশেষ ইংল্যান্ডের ওয়ার্কিংটন টাউনে ১৬ বছর আগে কোচ হিসাবে এসেছিলেন৷ সঙ্গে এসেছিল তাঁর পরিবার৷ ২০১৩ সালে তিনি সস্ত্রীক নিউজিল্যান্ডে ফিরে যান৷ ততদিনে তাঁর ছেলে বেঞ্জামিন অ্যান্ড্রু স্টোকস ইংল্যান্ডে জাতীয় ক্রিকেট দলের নিয়মিত সদস্য হয়ে গিয়েছেন৷ ছেলের এই সাফল্য খুব গর্বিত বাবা৷ তাঁর সাফ কথা, ‘নিউজিল্যান্ড ছাড়া অন্য কোনও দলের বিরুদ্ধে খেললে আমি চোখ বন্ধ করে বেনকেই সমর্থন করতাম৷ তবে এবার পারবো না৷ আমি যে ওর সমর্থক নই তা ও নিজেও জানে৷ এই নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনও বিরোধ নেই’৷ তবে বেনের মা বেশ কূটনৈতিকের মতো উত্তর দিয়েছেন৷ তাঁর কথায় ‘ফাইনালে যে দলই জিতুক, কাপ আমাদেরই থাকছে৷ ছেলের জয় ও দেশের জয় আসলে দুটোই আমাদেরই জয় বললেন বেনের মা ডেবোরা৷

২৮ বছরের বেনের এই বিশ্বকাপটা দারুণ যাচ্ছে৷ রীতিমতো স্বপ্নের ফর্মে আছেন তিনি৷ ১০ ম্যাচে ৩৮১ রানের পাশাপাশি সাত উইকেটও আছে তাঁর ঝুলিতে৷ বেন নিজে অবশ্য তাঁর জন্মভূমি ও কর্মভূমি- দুই দেশকেই সম্মান জানান৷ তিনি পিঠে ইংল্যান্ডের গর্বের প্রতীক থ্রি লায়ন্সের ট্যাট্যু করেছেন অন্যদিকে বাঁ হাতে নিউজিল্যান্ডের মাউরি আদিবাসীদের ট্যাট্যু আছে৷ এটা তাঁর মায়ের দেশ৷ মাকে সম্মান জানাতে হাতে এমন ট্যাট্যু এঁকেছেন তিনি৷ তাঁর বাবা জেরার্ড এর সোজা কথা, বেনকে জিজ্ঞেস করলে বলবে জন্ম নিউজিল্যান্ডে, কিন্তু আমি একজন গর্বিত ইংরেজ৷ ফাইনালে অবশ্য লর্ডসে থাকছেন না বেনের বাবা ও মা৷ তাঁরা নিউজিল্যান্ডে পাড়াপ্রতিবেশীদের সঙ্গে বসেই ফাইনাল দেখবেন৷ ইংল্যান্ডের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের সময় পার্থক্য ১১ঘন্টা তাই খেলা দেখতে হবে রাতে৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here