governor arjuna comment

Highlights

  • নিজের বক্তব্যেই অনড় রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়
  • তিনি বিশ্বাস করেন ভারতের ইতিহাসে
  • সমালোচকদের সঙ্গে বিতর্কে যেতেও প্রস্তুত রাজ্যপাল

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অর্জুনের বাণে পরমাণু বোমা ছিল, বিজ্ঞান মঞ্চের অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে আজব তত্ত্ব আউড়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচিত হচ্ছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচিত হলেও নিজের বক্তব্য থেকে একচুলও সরে আসলেন তো নাই বরং যাঁরা তাঁর এই বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চান তাঁদের সঙ্গেও বিতর্ক করতে প্রস্তুত বলে জানালেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। বুধবার নিজের বক্তব্যেই অনড় থাকলেন তিনি।

মঙ্গলবার ইঞ্জিনিয়ারিং ফেয়ারের একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে রাজ্যপাল বলেছিলেন, ‘অর্জুনের তিরে ছিল পরমাণু অস্ত্র!’ সেইসঙ্গে আরও নানা মন্তব্য করেছিলেন তিনি, যা নিয়ে ক্ষুব্ধ বিজ্ঞানীরাও। কিন্তু সেই প্রসঙ্গে বুধবার আরও একবার ধনকড় জানালেন, এই তথ্য তিনি পেয়েছেন ভারতীয় ইতিহাস পড়ে।

শুধু তাই নয়, তিনি এদিন আরও বলেন, ‘যা বলেছি, তা নিয়ে যে কারও সঙ্গে তর্কে বসতে পারি। আমি বিশ্বাস করি ৫ হাজার বছর পুরনো ভারতের ইতিহাসে। ভারতীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য পড়েই সব বলছি।’ সেইসঙ্গে তাঁর সংযোজন, ‘ইতিহাস পড়ুন, আমাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানুন। আমি ইতিহাসে বিশ্বাস করি। রামকে পুরাণের চরিত্র বলা হচ্ছে, একদমই তা নয়। আমরা চার হাজার বছর আগে থেকেই নানা জায়গায় উন্নত। তা জানতে হবে।’

মহাভারত গবেষক নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়িও একটি সংবাদ চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে বলেন, ‘বিজেপি এখন নতুন রামায়ণ লিখছে। তাদের বর্ণনায় রামচন্দ্রকে মনে হয় একজন রাগী ব্যক্তি, সব সময় অস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়ান। প্রভুভক্ত হনুমান ওদের কাছে তেল সিঁদুর মাখানো এক নতুন রূপ। নতুন করে বিজ্ঞান লিখছে, রামায়ণ লিখছে। ওরা প্রচার করতে চাইছে রামায়ণ ওদের, রামরাজ্যের যে ছবিটা আঁকছে সেটা হিন্দু রাষ্ট্রের।’

রাজ্যপালের মুখে এহেন সব আজব তত্ত্ব শুনে অনেকেরই অভিমত, এটাই তো গেরুয়া ট্র্যাডিশন। পদাধিকার বলে এখন রাজ্যপাল হলেও জগদীপ ধনকড় আসলে তো বিজেপিরই সদস্য ছিলেন, তাই এমন অভিমত আশ্চর্যের নয়। এর আগে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, ১৯৮৮ সালে তিনি ই-মেল ও ডিজিটাল ক্যামেরা ব্যবহার করেছেন। এটা শোনার পরে অনেকেই মাথা চুলকোচ্ছেন। সেই ক্যামেরায় তিনি বিজেপির প্রবীণ নেতা এল কে আডবাণীর ছবি তুলেছিলেন। শুধু তাই নয়, সেই ছবি তিনি নাকি ই-মেল করেও পাঠিয়েছিলেন। এই বক্তব্য নিয়েও তৈরি হয়েছিল দারুণ বিতর্ক। সোশ্যাল মিডিয়ায় মজাদার মিম ভাইরাল হয়েছিল সেইসময়।

পিছিয়ে নেই ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবও। মহাভারতের যুগে ইন্টারনেট, হাঁসেরা অক্সিজেন দেয় বলে নানা ধরণের অবাস্তব মন্তব্য করেছিলেন তিনি। কিছুদিন আগে সারা দেশে অর্থনীতির বেহাল দশা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে পীয়ূষ গোয়েল বলেন, ‘আইনস্টাইনের মাধ্যাকর্ষণ আবিষ্কারে অঙ্ক কোনও কাজে আসেনি।’ প্রশ্ন ওঠে মাধ্যাকর্ষণ আইনস্টাইন আবিষ্কার করলে নিউটন কী করেছিলেন? একইভাবে দিলীপ ঘোষ দাবি করেছিলেন, গোরুর দুধে সোনা পাওয়া যায়! সেই তালিকায় এবার নবতম সংযোজন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here