news bengali

মহানগর ওয়েবডেস্ক: ঘূর্ণিঝড় আমফানের ফলে বাড়ি ভেঙে নিরাশ্রয় হয়ে পড়া মানুষকে নতুন বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার লক্ষ্যে রাজ্য সরকার গ্রামীণ আবাস যোজনায় গতি আনতে চাইছে। পাশাপাশি, ১০০ দিনের কাজের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের দিয়েই গরিব মানুষের বাড়ি তৈরির কাজ করার লক্ষ্য নিয়েছে রাজ্য সরকার। এতে একদিকে যেমন গরিব মানুষের বাড়ি তৈরি হবে, তেমনই ১০০ দিনের কাজে যুক্ত লক্ষ লক্ষ মানুষের কাজ পাওয়ার সুযোগ বাড়বে।। যাঁদের কাঁচা বাড়ি কিংবা মাথার ওপর কোনও পাকা ছাদ নেই, সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড়ে যাদের বাড়ি ভেঙেছে আবাস প্রকল্পে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

এখানে বলে রাখা ভাল এ রাজ্যের সরকার প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার নাম বদলে বাংলার আবাস যোজনা করেছে। নবান্ন সূত্রে খবর, চলতি বছরে ওই প্রকল্পে ১০ লক্ষ গরিবকে বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে ৪ লক্ষ ২১ হাজার মানুষের তালিকা চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। একদিকে অতিমারি করোনা, আর তারপর ঘূর্ণিঝড় আমপানের জেরে প্রভূত ক্ষতির মুখে সাধারণ মানুষ। দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বাড়ি-ঘর ভেঙে আশ্রয়হীন হয়েছে বহু পরিবার। কিছুদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন, ১০ লক্ষ গরিবকে বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হবে। সেই নির্দেশ মেনে ৪ লক্ষ ২১ হাজার মানুষের তালিকা চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় উত্তর পরিস্থিতিতে ওই প্রকল্পে আরও জোর দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের শীর্ষ স্তরের তরফে। জানা গিয়েছে, রাজ্যের ২২ টি জেলায় একটি করে শোয়ার ঘর, বারান্দা, রান্নার জায়গা ও শৌচাগার সমেত বাড়ি তৈরির কাজে হাত দিয়েছে রাজ্য সরকার। দুর্গা পুজোর আগেই সেই নির্মাণ কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর নির্দেশ গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ১০০ দিনের কাজ, বাংলার আবাস যোজনায় গরিব মানুষের বাড়ি, গ্রামীণ সড়ক যোজনার মাধ্যমে রাস্তা নির্মাণ সহ একগুচ্ছ প্রকল্প শুরু করতে হবে। সেই নির্দেশ অনুযায়ী জেলায় জেলায় বাংলার আবাস যোজনার অধীনে গরিব মানুষের বাড়ি তৈরির পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে প্রশাসন। যাঁদের কাঁচা বাড়ি কিংবা মাথার ওপর কোনও পাকা ছাদ নেই, এরকম মানুষকে ওই তালিকায় রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে যাঁরা তালিকাভুক্ত হয়েছেন তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি এই বাড়ি তৈরির টাকা দেওয়া হবে তিন কিস্তিতে। বাড়ি প্রতি ধার্য হয় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। তবে জঙ্গলমহল এলাকার মানুষরা পান ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। এই টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও অভিযোগ যাতে না আসে তার জন্য কড়া হুঁশিয়ারি রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। এই বিষয়ে কোনও অভিযোগ এলে অভিযুক্ত নেতা বা অফিসারের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানানো হয়েছে।

বাড়ি তৈরির প্রথম তালিকায় আমপান বিধ্বস্ত উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা যেমন আছে, তেমনই মুর্শিদাবাদ সহ বিভিন্ন বড় জেলার লোকজন বেশি করে স্থান পেয়েছেন। প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য পঞ্চায়েত দফতর থেকে সাত মাস আগে চলে যাওয়া ১০০ দিনের কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার দিব্যেন্দু সরকারকে ফের পঞ্চায়েত দফতরের সচিব পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া ঘূর্ণিঝড়ে যাঁদের বাড়ি ভেঙে গিয়েছে তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

গত আর্থিক বছরে বাংলার আবাস যোজনা প্রকল্পে ১০ লক্ষ ৮৩ হাজার বাড়ি তৈরির পরিকল্পনা ছিল রাজ্যের। কিন্তু করোনা সংক্রমণের জেরে সেই কাজ কয়েক মাস ধরে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের দেওয়া লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি পঞ্চায়েত দফতর। সূত্রের খবর, সেই কাজ শেষ করার জন্য ৩০ জুন পর্যন্ত সময় দিয়েছে কেন্দ্র। এর মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে নতুন আর্থিক বছরে ১০ লক্ষ বাড়ি তৈরির লক্ষ্যমাত্রা ধার্য হয়েছে। সেই নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্যের গরিব পরিবারের তালিকা তৈরিতে কাজ শুরু করে দিয়েছে পঞ্চায়েত দফতর। প্রাথমিক তালিকা তৈরি প্রায় শেষ। এবার বাকি ৫ লাখ ৭৯ হাজার লোকের তালিকা শীঘ্রই চূড়ান্ত হবে বলে সরকারি সূত্রে খবর। পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখার্জি বলেন, বাংলার আবাস যোজনায় আমরা গত কয়েক বছর ধরেই দেশের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছি। এবারও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here