নিজস্ব প্রতিবেদক, মেদিনীপুর: আগেই শিকারে গিয়ে বাঘের আক্রমনে পড়েছিলেন গোয়ালতোড়ের কুশকাঠির জয়রাম সোরেন । তারপরই বনদপ্তর জঙ্গলে ঘোরাফেরা বা শিকার করতে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। গত পরশু আদিবাসিদের শিকার করতে যাওয়ার সময় তাদের পায়ে ধরে নিষেধ কড়তে দেখা গিয়েছিল বনদপ্তরেরই এক মহিলা কর্মীকে। সেই ছবি ও ভিডিও সংবাদমাধ্যম মারফত রীতিমত ভাইরাল হয় নেটদুনিযায়। সেই দিন কথা শুনলেও শুক্রবার ফের আদিবাসীরা জঙ্গলে পা বাড়ায় শিকার করতে, আর সেটা বন দপ্তরের কথা অগ্রাহ্য করেই। আর তার ফলে যা হবার তাই হল। বাঘের আক্রমনে আহত হলেন তিনজন। বাঘের হামলা থেকে কোনভাবে নিজেদের ছাড়িয়ে এখন হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ভয়ে কাঁপছেন আহত শিকারিরা।

আহত পন্ডা মুর্মু (৩৫), নন্দলাল সোরেন (৪০) আর সুদন সোরেন (২৮ ) প্রত্যেকেরই বাড়ি ধেড়ুয়া এলাকায়। বাঘের হামলায় গুরুতর আহত অবস্থাতেই তারা গ্রামে ফিরে সবাইকে গোটা ঘটনা জানান। গ্রাম থেকে বাকিরা গিয়ে বাঘটির খোঁজে করতে দেখেন সে একটি কালভার্টের ভেতরে ঘাপটি মেরে বসে রয়েছে। তখন তারা কালভার্টের দুই প্রান্ত জাল দিয়ে বন্ধ করে বনদপ্তর কে খবর দেয়। খবর পেয়ে বনদপ্তরের বাঘ ধরার বিশেষ টিম তাদের সমস্ত জিনিসপত্র নিয়ে সেখানে হাজির হয়েছিলও। সঙ্গে পিছু পিছু এসে জড়ো হয় কয়েক হাজার গ্রামবাসী, বাঘটিক দেখার জন্য। গ্রামবাসীদের পুলিশের সাহায্যে দূরে আটকে রেখে বনকর্মীরা বাঘটিকে ধরতে যায়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বাঘটিকে ধরতে পারেনি তারা। এক বনকর্মী জানায় ‘কালভার্টের মুখে জাল দিয়ে আটকে বাঘটিকে ধরার চেষ্টা হলে বাঘটি একটি বিশাল গর্জন করে জলের ওপরে ঝাঁপ দিয়ে পড়ে । বাঘের হুংকারেই  জাল ধরে থাকা বনকর্মীরা জাল ছেড়ে পালায়। ফলে বাঘটিকে ধরা যায়নি।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here