kolkata news

নিজস্ব প্রতিনিধি : জয়ের আনন্দে ভেসে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। অথচ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার দুদিন পরেও অন্তরালে রইলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। কেন তিনি লোকচক্ষুর অন্তরালে? কেনই বা মাতছেন না জয়োল্লাসে? গুচ্ছ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।

জনগণের দুয়ারে তিনি ভোট চাইতে গিয়েছিলেন সেই ২০০১ সালে। তখন তাঁর প্রতীক ছিল ঘাসফুল। সেবার তৃণমূলের সেকেন্ড ম্যান মুকুল রায় প্রার্থী হয়েছিলেন জগদ্দলে। তাঁর প্রধান প্রতিপক্ষ ছিল ফরওয়ার্ড ব্লকের হরিপদ বিশ্বাস। গোহারা হেরে গিয়েছিলেন ওই নির্বাচনে। তার পর আর মানুষের দরবারে ভোট চাইতে যাননি মুকুল। এই সময়ের মধ্যে গঙ্গা দিয়ে বয়ে গিয়েছে অনেক জল। কালীঘাটের আদিগঙ্গা ছেড়ে মুকুল গিয়ে পড়েছেন যমুনাপুলিনে। তৃণমূলের টিকিটে রাজ্যসভার সাংসদ হয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন দিল্লি।

দিল্লি চ্যাপ্টার ক্লোজ হলে মুকুল ফেরেন রাজ্যরাজনীতিতে। পরে তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে দূরত্বের কারণে ২০১৭র শেষের দিকে মুকুল যোগ দেন বিজেপিতে। তাঁর একদা  দলনেত্রীকেই এবার চ্যালেঞ্জ করছেন মুকুল। ঘাসফুল বনাম পদ্মফুল। এর পর আচমকাই দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বৃত্তে নিয়ে গিয়ে মুকুলকে কোণঠাসা করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকায় দেখা গেল, মুকুল পদ্মফুল চিহ্নে প্রার্থী হচ্ছেন কৃষ্ণনগর উত্তরে। সেখানে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূলের তারকা কৌশানী মুখোপাধ্যায়। রূপোলি পর্দার জনপ্রিয় নায়িকাকে ধরাশায়ী করে বিকশিত হন মুকুল।

মুকুলের কাছে কৌশানী হারেন ৩৫ হাজারেরও বেশি ভোটে। জীবনে প্রথমবার মানুষের ভোটে জয়ী হওয়ায় স্বভাবতই উল্লসিত হওয়ার কথা ছিল মুকুলের। অথচ ২রা মে ফল ঘোষণা হলেও, মুকুল রয়ে গিয়েছেন অন্তরালেই। কী কারণে মুকুলের এই স্বেচ্ছা নির্বাসন? কেউ বলছেন, মুকুল নিজে জিতলেও, দলের ফল ভালো হয়নি। জেতেননি ছেলে শুভ্রাংশুও। কেউ বলছেন, তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের কয়েকজন কর্মী সংক্রমিত হয়েছেন করোনায়। সেই কারণেই তিনি রয়েছেন নিভৃতাবাসে। নাকি বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত হওয়ার পর খোলস ছেড়ে বের হবেন মুকুল! এমন গুঞ্জনও তো শোনা যাচ্ছে। সবুর করে দেখাই যাক, মেওয়া ফলে কিনা!

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here