mamata bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: ‘অতিসক্রিয়’ রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় ঠিক কোন যুক্তিতে এসসি-এসটি বিল আটকে দিলেন, তা মাথায় ঢুকছে না মুখ্যমন্ত্রীর। দেশের অন্যান্য বহু রাজ্যে এসসি-এসটি কমিশন রয়েছে। সেখানে এ রাজ্যে তা লাগু করতে অসুবিধাটা কোথায়? বুঝতে পারছেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতও একই। রাজ্যপালের কাছে দীর্ঘদিন বিল এভাবে পড়ে থাকলে তা গুরুত্ব হারিয়ে যায় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

সূত্রের খবর, নিজের ঘনিষ্ঠ মহলে এ বিষয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সাফ কথা, দেশের ১২টি রাজ্যে এসসি-এসটি কমিশন আছে। আজ বিধানসভায় বিল পেশের কথা ছিল। রাজ্যের এক্তিয়ার নয় বলে রাজ্যপাল আটকে দিলেন। কোন যুক্তিতে বিল আটকালেন, তা বোধগম্য হল না। রাজস্থান, পঞ্জাব, মধ্যপ্রদেশ, কর্ণাটক, বিহার সহ একাধিক রাজ্যে এই কমিশন যে রয়েছে, সে কথাও উল্লেখ করেছেন মমতা। এদিন একই সুর শোনা যায় বিধানসভার স্পিকারের গলাতেও।

কলকাতার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ জুরডিক্যাল সায়েন্সে মানবাধিকার দিবসের আন্তর্জাতিক ঘোষণার ৭১তম বার্ষিকী উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাজ্য বিধানসভার কোনও গুরুত্বপূর্ণ বিল দীর্ঘদিন রাজ্যপালের কাছে পড়ে থাকলে সেই বিলের গুরুত্ব হারিয়ে যায়। তিনি জানান, তপশিলি জাতি ও আদিবাসী, গণপ্রহার সহ একাধিক জনমুখী বিল রাজ্যপালের কাছে আটকে রয়েছে। বিধানসভার কোন বিল রাজ্যপালের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হলে সেই বিলের যৌক্তিকতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন করতেই পারেন। তবে এভাবে বিলগুলি আটকে রাখলে এবং সেগুলি বিধানসভায় পাশ না হলে তা এক ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে মনে করেন বিমান।

অধ্যক্ষ আরও বলেন, মানবাধিকার সম্পর্কে এখনও বহু মানুষ সচেতন নন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ঘোষণার পর তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভারতে যে সংবিধান প্রণয়ন হয়েছে এবং সেই সংবিধানে যে অধিকারের কথা বলা হয়েছে, সে সম্পর্কেও মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে। অধ্যক্ষ এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর প্রতি বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, সচেতনতা বাড়লেই মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা সার্থক হবে।

এদিকে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ৭১ বছর পরেও বিষয়টি নিয়ে এভাবে আলোচনা করার অর্থ হল মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। তাই মানবাধিকার লঙ্ঘন হয় এমন কোনও কাজে যুক্ত না হওয়া বা কাজ না করার অঙ্গীকার গ্রহণের উপর তিনি গুরুত্ব দেন। তিনি আরও বলেন, সংবিধানে যে অধিকারগুলোর কথা উল্লেখ রয়েছে সেগুলি সঠিক ভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারলেই বিআরআম্বেদকর-এর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে। অনুষ্ঠানে রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান গিরিশ চন্দ্র গুপ্ত, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ জুরিডিক্যাল সায়েন্স-এর উপাচার্য নির্মল চক্রবর্তী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here