kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, বর্ধমান: পরপর চারটি কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন৷ যার ফলে জ্বলবে না বংশের প্রদীপ। তাই গলায় ফাঁস লাগিয়ে, শ্বাসরোধ করে খুন করা হল গৃহবধূকে। নৃশংস এই ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার মন্তেশ্বরে৷ পুলিশ জানায়, মৃতের নাম রিম্পা প্রামানিক (২৮)। তাঁর স্বামী পিন্টু প্রামানিক ও শ্বশুরবাড়ির লোকেরা মিলে তাঁকে খুন করেছে বলে অভিযোগ৷ ইতিমধ্যে পিন্টুকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মন্তেশ্বর থানার বরণডালা গ্রামের গৃহবধূ রিম্পা প্রামানিক৷ সোমবার সকালে ওই গ্রামে শ্বশুরবাড়ির একটি ঘর থেকেই রিম্পার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়৷ রিম্পা আত্মহত্যা করেছেন বলেই তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকেদের দাবি৷ কিন্তু রিম্পার পরিবারের অভিযোগ, পরপর কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়ায় রিম্পার উপর পিন্টু ও তার পরিবার অকথ্য অত্যাচার চালাত৷ তারাই রবিবার গভীর রাতে রিম্পাকে শ্বাসরোধ করে খুন করে, সিলিং পাখার সঙ্গে ঝুলিয়ে দিয়েছে৷ ঘটনার তদন্তে রিম্পার দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে মন্তেশ্বর থানার পুলিশ৷ পাশাপাশি পিন্টুকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে৷

বছর দশেক আগে কালনার মন্তেশ্বরের বরণডালা গ্রামের বাসিন্দা পিন্টু প্রামানিকের সঙ্গে বিয়ে হয় কানপুর গ্রামের রিম্পা প্রামানিকের। প্রথম থেকেই বংশে বাতি দেওয়ার জন্য রিম্পার কাছে সবসময় ছেলে জন্ম দেওয়ার দাবি জানাত পিন্টুর পরিবার৷ কিন্তু তাদের দাবি পূরণ করতে পারেননি রিম্পা৷ পরপর দুটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন তিনি। সেজন্য স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকেদের কাছে অনেক লাঞ্ছনা-গঞ্জনা শুনতে হত তাঁকে৷ শ্বশুরবাড়ির লোকেদের দাবি পূরণ করার জন্য সম্প্রতি আবার গর্ভবতী হন রিম্পা৷ কিন্তু এবারেও তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকেদের আশা পূরণ হয়নি৷ এবার আবার যমজ কন্যা সন্তানের জন্ম দেন রিম্পা। তার ফলেই তাঁর উপর শ্বশুরবাড়ি লোকেদের অত্যাচার বেড়ে যায় বলে রিম্পার পরিবারের অভিযোগ। সম্প্রতি অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে কোলের দুই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে বাপেরবাড়ি চলে গিয়েছিলেন রিম্পা। কিন্তু পিন্টু তাঁকে বুঝিয়ে ফের বাড়িতে নিয়ে আসেন। কিন্তু তারপরেও পরিস্থিতি বদলায়নি। বরং রিম্পার উপর অত্যাচার আরও বেড়ে গিয়েছিল বলে পুলিশকে জানিয়েছে রিম্পার পরিবার৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here