স্ত্রীর পরকীয়ায় আপত্তি স্বামীর! পুরুষাঙ্গে কামড় দিয়ে শোধ তুললেন ঘরণী

0
103
kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, বোলপুর: না, শান্তিনিকেতনে আর শান্তি রইল না। ভর সন্ধ্যাতেই যদি মাঝরাতের কারবার শুরু হয়ে যায় তালে আর পাড়াপ্রতিবেশীর শান্তিটা থাকে কি করে বলুন তো! আদরের খেলায় কামড়াকামড়ি বিলক্ষণ চলে, এ কালের প্রজন্ম যাকে ‘লাভ বাইটস’ বলেই চেনে। অনেকে ঘাড়ে, গলায়, গালে সে সব চিহ্ন নিয়ে সগর্বে ঘুরে বেড়াতেও পছন্দ করেন। কেউ কেউ আবার তা নিয়ে জিজ্ঞাসা করলে লজ্জায় অধোবদন হয়ে একটা ইসমাইলও দেন! অনেকে তো আবার বড়াই করে সেই সব চিহ্নের ছবি মোবাইলে তুলে আপলোড করে দেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। মানে সব মিলিয়ে কামড়াকামড়ি এখন হট ফেবারিট। কিন্তু তাই বলে ভরসন্ধ্যায়! তাও আবার পুরুষের শ্রীঅঙ্গে! তার অহংকারে! কি যুগটাই না পড়ল! যদিও কিরিটি-কণিকার পিরিতের ঠেলায় এখন শান্তি বেশ ভালই ব্যাঘাত ঘটেছে কবিগুরুর স্মৃতিধন্য শান্তিনিকেতনে। লোকের মুখে মুখে ঘুরছে এখন একটাই কথা, ‘এমনও হয়!’

ঘটনার সূত্রপাত, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। বীরভূম জেলার বোলপুর মহকুমার শান্তিনিকেতন থানার দিগন্তপল্লী এলাকা। সেখানকারই বাসিন্দা কিরিটি খাঁ পেশায় রাজমিস্ত্রি। নিন্দুকেদের দাবি, কানে ঠিকমতো শুনতে পান না কিরিটি। তারই ‘ইস্ত্রী’ কণিকা খাঁ পরিচারিকার কাজ করেন। প্রায়ই দুইয়ে লাগে ঝগড়া। গোটা পাড়া তখন তা শোনে। কিন্তু সেই বাড়িতেই যে এমন হুলস্থূল কাণ্ড ঘটে যাবে সেটাই কেবা জানতো! ঘটনার দিন বাড়ি ফেরার পর আর পাঁচটা দিনের মতই কিরিটি-কণিকার লাগে বিবাদ। পাড়াপ্রতিবেশীদের কাছে তা রোজকার ঘটনা। তাই তা নিয়ে কেউই খুব একটা মাথা ঘামায়নি। কিন্তু তারই মাঝে হঠাৎ তারস্বরে চিৎকার, ‘মাগো মরে গেলাম গো’। এবার কেউ কেউ বুঝলেন, এখন আর শুধু মুখে কাজ হচ্ছে না হাতটাও লাগাতে হচ্ছে। পাড়ার উঠতি কয় ছোরা সাহস করে জানলা দিয়ে মারল উঁকি। যা দেখল, তা দেখে তখন তারাই লজ্জায় মরে যায় যায়। কণিকার কামড়ে রক্তাক্ত ক্ষতবিক্ষত হয়ে ঝুলছে কিরিটির বড় আদরের, বড় গর্বের, পুরুষাঙ্গখানি। সে খবর রটতে আর বেশি সময় লাগল না। পাড়া ভেঙে পড়ল কিরিটি-কণিকার বাড়িতে। কেউ দেখে আঁতকে ওঠে, কেউ বা মুখে কাপড় চাপা দিয়ে হাসে। কেউ বা লজ্জায় মরে যাই যাই। আর যাসের নিয়ে এত কাণ্ড, সেই কিরিটি একদিকে যখন যন্ত্রণায় কাতরাছে, তখন পাশে বসে লজ্জায় মুচকি হেসে চলেছে কণিকা।

কিন্তু এত কিছু থাকতে পুরুষের ওই অহংকারেই নজরটা গেল কেন কণিকার? কেনই বা কামড়? ভরসন্ধ্যায় ঠিক কি হচ্ছিল যে কণিকার মুখ চলে গেল কিরিটির শ্রীঅঙ্গে? এত সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি। কণিকার অভিযোগ, স্বামী তার সংসার টানতে দেয় না পয়সা। দিনরাত গেলে খালি পিপে পিপে মদ। তা নিয়েই নিত্যদিন বাধে বিবাদ। বৃহস্পতবারও তাই লেগেছিল। তারই মাঝে একদম লুঙ্গি তুলে কচাত করে কামড়। তাতেই কাহিল কিরিটি! তবুও কারোর যাচ্ছিল না সন্দেহ! শুধুই এরজন্য এমন কামড়, বিশ্বাস হচ্ছিল না অনেকের। শেষে হাটে হাঁড়ি ভাঙলেন কণিকার শাশুড়ি অন্নপূর্ণা খাঁ। জানিয়ে দিলেন, ছেলে তার এখন কিছুটা দুব্বল হয়ে গিয়েছে। তাই গতরের খাঁই মেটাতে কণিকা পাকড়েছে এক ডবকা ছেলেকে। তার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েই যাবতীয় অশান্তি।

kolkata bengali news

অন্নপূর্ণার দাবি, সেই ছেলের পরামর্শেই এত কিছু করেছে তার ছেলের বউ। এর আগে একবার কিরিটিকে বিষ খাইয়ে মারতে চেয়েছিল কণিকা। কপাল জেরে বেঁচে গিয়েছিল কিরিটি। কিন্তু কণিকার থাপ্পড়ে গিয়েছে বিগড়ে কিরিটির কান। অন্নপূর্ণার দাবি ছেলেকে মেরে কানে কালা করে দিয়েছে তার বৌমা। যদিও এইসব অবিযোগ অস্বীকার করেছে কণিকা। তার দাবি, কিরিটি মদ্যপায়ী। মদ খেয়ে চুর হয়ে এসে তাকে মারধোর করে। সংসারের খরচপাতি ঠিকমতো দেয় না। তাই রাগের মাথায় তিনি দিয়েছেন কামড়! ঘটনার দিনই কিরিটি ভর্তি হয়েছিলেন বোলপুর হাসপাতালে। শুক্রবার ফিরেছেন বাড়িতে। এদিন অন্নপূর্ণা জানিয়েছেন, ছেলেকে দিয়ে বৌমার নামে নালিশ জানাবেন পুলিশের কাছে! ঠাকুর এ জীবনে না জানি আরও কত কিছু দেখতে হবে!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here