নিজস্ব প্রতিবেদক, দিনহাটা: ঘরের বিছানা থেকে মিলল গৃহবধূর নলি কাটা নিথর দেহ। সোমবার সকালে নৃশংস এই ঘটনাটি ঘটেছে কোচবিহার জেলার দিনহাটার ওকড়াবাড়ি এলাকায়। পুলিশ জানায়, মৃতের নাম শাবানা পারভিন। সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের জেরে শাবানার স্বামী মাসুদ জালালই তাঁকে খুন করেছে বলে অভিযোগ। ঘটনার পর থেকেই সে পলাতক। ইদুজ্জোহার দিন সকালে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় ওকাড়াবাড়ি এলাকায়। মাসুদকে না পেলেও নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তার বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় স্থানীয় বাসিন্দারা। অন্যদিকে, মাসুদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে দিনহাটা থানার পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে ঈদুজ্জোহার নামাজ শেষ হওয়ার পর দিগল টারিতে শাবানা পারভিনের বাপেরবাড়িতে তাঁর মৃত্যুর খবর পৌঁছয়। শাবানাকে কেউ খুন করেছে বলেই মাসুদের পরিবারের তরফে তাঁর বাড়িতে জানানো হয়। এরপর শাবানার বাবা-মা তড়িঘড়ি মেয়ের শ্বশুরবাড়ি ওকাড়াবাড়িতে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখেন, শ্বাসনালী কাটা অবস্থায় ঘরের বিছানায় পড়ে রয়েছে শাবানা পারভিনের রক্তাক্ত দেহ। আর মাসুদ বাড়িছাড়া। মাসুদই যে শাবানাকে খুন করেছে, সে বিষয়ে তার প্রতিবেশী ও শাবানার পরিবার নিশ্চিত। কেননা সম্পত্তি নিয়ে যে শাবানার সঙ্গে প্রায়ই মাসুদের অশান্তি বাধত, তা কারোর অজানা নয়। এর উপর শাবানার নৃশংস হত্যার পর মাসুদের বাড়ি ছাড়ার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল আরও তীক্ষ্ম হয়েছে। মাসুদের কড়া শাস্তির দাবিতে তার বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে শাবানার পরিবার। মাসুদের প্রতিবেশীরাও এই নৃশংশ হত্যাকাণ্ড মেনে নেয়নি। ঘটনার প্রতিবাদে তাঁরা মাসুদের বাড়িতে হামলা চালায়। একটি গাড়িও ভাঙচুর করে পুকুরে ফেলে দেয় উত্তেজিত জনতা। তারপর দিনহাটা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং শাবানার দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়।

উল্লেখ্য, মাস কয়েক আগে ওকড়াবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মাসুদ জালালের সঙ্গে দিনহাটার দিগল টারি এলাকার শাবানা পারভিনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন কারণে তাদের মধ্যে অশান্তি হত। এরপর মাসুদের বাবা শাবানার কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি লিখে দেন। তার জেরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়ে। অশান্তিও চরমে ওঠে। বাধ্য হয়ে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে বাপেরবাড়ি চলে যান শাবানা। গত পরশু দিন মাসুদ শাবানার বাপেরবাড়িতে গিয়ে তাঁকে নিয়ে আসে। শাবানার উপর আর অত্যাচার করবে না বলে তাঁর বাড়ির লোকেদের আশ্বস্তও করেছিল। কিন্তু সেটা যে কেবল মুখের কথা ছিল, তা এদিনের ঘটনাতেই স্পষ্ট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here