kolkata bengali news

ডেস্ক: উইকিলিক্সের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়েন অ্যাসাঞ্জকে গ্রেফতার করল ব্রিটিশ পুলিশ। বৃহস্পতিবার লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাস থেকে বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ পুলিশ গ্রেফতার করেছে তাঁকে। সংবাদ সংস্থা রয়টারকে উদ্ধৃতি করে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এ খবর জানিয়েছে। অ্যাসেঞ্জের আশ্রয়ের অনুমোদন দক্ষিণ আমেরিকার ইকুয়েডর প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এক বিবৃতিতে মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, ওয়েস্টমিনস্টার কোর্টে পেশ করার আগে পর্যন্ত সেন্ট্রাল লন্ডন পুলিশ স্টেশনেই রাখা হবে অ্যাসাঞ্জকে। যদিও যত দ্রুত সম্ভব তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে বলেও ওই বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। এছাড়া জানানো হয়েছে, অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। আদালতে আত্মসমর্পন না করার জন্য ২০১২ সালের ২৯ জুন ওয়েস্টমিনস্টার কোর্ট তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। আদালতের নির্দেশকে কার্যকর করেছে মেট পুলিশ সার্ভিস (এমপিএস)। ইকুয়েডরের সরকার অ্যাসাঞ্জের আশ্রয়ের অনুমোদন প্রত্যাহারের পর পুলিশকে দূতাবাসে ডাকেন ইকুয়েডরের রাষ্ট্রদূত।

উল্লখ্যে, যৌন নিগ্রহের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২০১২ সালে তাঁকে সুইডেনে প্রত্যর্পণের সম্ভাবনা তৈরি হয়। এটা এড়িয়ে যাওয়ার জন্য লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসে আশ্রয় নেন অ্যাসাঞ্জ। পরে সেই মামলা প্রত্যাহারও হয়, কিন্তু প্রত্যর্পণের ভয় তাঁর থেকেই যায়। কারণ, আমেরিকার বেশ কিছু তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করেছিল উইকিলিক্স। পরবর্তীতে ইকুয়ডরের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হয় অ্যাসাঞ্জের। ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনোর ব্যক্তিজীবনের কিছু তথ্য ইউকিলিক্স ফাঁস করে দেওয়ার পর অ্যাসাঞ্জের আশ্রয়ের অনুমোদন তুলে নেয় ওই দেশ। মোরোনো আগেই বলেছিলেন, তাঁর আশ্রযের শর্ত লঙ্ঘন করেছন অ্যাসাঞ্জ। কিন্তু অ্যাসাঞ্জকে গ্রেফতারের পর তিনি বলেন, এমন একটি দেশে অ্যাসাঞ্জকে প্রত্যর্পণ করা যাবে না, যেখানে তাঁকে অত্যাচারের মুখে পড়তে হবে বা তাঁর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হবে। এটা ব্রিটেনকে নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ করেছেন বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি, ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এক প্রশ্নের উত্তরে জানান, মস্কো আশা করছে তাঁর অধিকারকে লঙ্ঘন করা হবে না।

অন্যদিকে, মার্কিন হুইসেলব্লোয়ার এডওয়ার্ড স্নোডেন এক ট্যুইট বার্তায় বলেছেন, অ্যাসাঞ্জের সমালোচকরা উচ্ছাস করতে পারেন, কিন্তু এটা হল সংবাদমাধ্যমের জন্য এক অন্ধকার মুহূর্ত। অপর এক ট্যুইটে তিনি বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাঁকে আটক করে অবাধে মানবাধিকার লঙ্ঘন করবে। মার্কিন বিচার বিভাগ অ্যাসাঞ্জকে প্রত্যর্পনের অনুরোধ জানিয়ে বলেছে, সাজা হলে অ্যাসাঞ্জের পাঁচ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে অভিযোগ, এক প্রাক্তন সেনা গোয়েন্দার কম্পিউটার হ্যাক করে প্রতিরক্ষা দফতরের পাসওয়ার্ড জেনেছেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here