kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ‘নিখোঁজ মেয়ের খোঁজ করতে ঘুস নিয়েছে পুলিশ। সত্যি কথা সামনে আসায় নিজেদের অপদার্থতা ঢাকতে থানায় তুলে নিয়ে গিয়ে বাবাকে জোর করে বয়ান বদল করতে বাধ্য করেছে পুলিশ। তাই আমরা ঠিক করেছি এবার পুজোয় পুলিশকে চুড়ি উপহার দেব। আপাতত তারা সেই চুড়ি হাতে পরে বসে থাকুক। ২১ সালে আমরা ক্ষমতায় এসে চুড়িগুলি খুলে নেব।‘ জলপাইগুড়ি এসে এই ভাষায় পুলিশকে কটাক্ষ করলেন বিজেপি মহিলা মোর্চার রাজ্য সভাপতি অগ্নিমিত্রা পাল।

বৃহস্পতিবার রাজগঞ্জের নির্যাতিতা নাবালিকা ও তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে জলপাইগুড়ি আসেন অগ্নিমিত্রা। পরিবারের সঙ্গে কথা হলেও হাসপাতালে ভর্তি থাকায় নাবালিকার সঙ্গে দেখা হয়নি তার। এদিন দুপুরে অগ্নিমিত্রা পালের সঙ্গে দেখা করেন রাজগঞ্জের ট্যাংরা পাড়ার বাসিন্দা সোমারু মহম্মদ। তিনি বিজেপির প্রতিনিধি দলের কাছে অভিযোগ করে বলেন, গত জানুয়ারি মাস থেকে তার মেয়ে নিখোঁজ। তাকে খুঁজতে পুলিশ তার কাছ থেকে আট হাজার টাকা ঘুস নিয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত মেয়েকে উদ্ধার করে দিতে পারেনি পুলিশ।

এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর চাপানউতোর শুরু হয় রাজগঞ্জে। রাতেই রহস্যজনক ভাবে বিবৃতি বদল করে সোমারু মহম্মদ বলেন, আমার মেয়ে নিখোঁজ। তাই আমার মাথা ঠিক নেই। আমি ভুল করে দুপুরে পুলিশকে ঘুস দেওয়ার কথা বলেছিলাম। আমি কোনও ঘুস দিইনি। এই কথা বলা তার ভুল হয়েছে বলে নতুন করে বিবৃতি দেন তিনি।

শুক্রবার সন্ধ্যায় শিলিগুড়ির কর্মসূচি শেষ করে ফের জলপাইগুড়ি চলে আসেন অগ্নিমিত্রা পাল। জেলা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন নাবালিকার সঙ্গে দেখা করতে গেলে জানতে পারেন, এদিন দুপুরেই নাবালিকাকে স্থানীয় একটি হোমে নিয়ে গিয়েছে পুলিশ। পুলিশ ঘটনা আড়াল করতে লুকোচুরি খেলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, সোমারু মহম্মদকে পুলিশ জোর করে চাপ দিয়ে বিবৃতি পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে। পুজোয় পুলিশকে চুরি উপহার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন অগ্নিমিত্রা। পরে শিলিগুড়ি ফেরার পথে রাজগঞ্জ থানা এবং মহিলা থানার পুলিশের সঙ্গেও কথা বলে নাবালিকার খোঁজ খবর নেন অগ্নিমিত্রা পাল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here