kolkata bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: শুক্রবার নেপালে মর্মান্তিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান বায়ুসেনার দুই পাইলট। যাদের মধ্যে একজন ছিল ভারতের, অন্যজন ভূটানের পাইলট। দু’জনেরই মৃত্যু হয় ঘটনাস্থলে। সূত্রের খবর, দুই পাইলটের মধ্যে ছিলেন ভারতীয় লেফটন্যান্ট কর্নেল রাজনীশ পারমার। শুক্রবারই জন্মদিনও ছিল তাঁর। ঘাতক হেলিকপ্টারে সওয়ার আগেই নিজের বাবাকে ফোন করে রাজনীশ বলেছিলেন, সন্ধেবেলাই ফের ফোন করবেন তিনি। যদিও বলাই বাহুল্য, সেই ফোন আর আসেনি।

রাজনীশের বাবা মুক্তিয়ার সিং ছিলেন বায়ুসেনারই অফিসার। সেই টান থেকেই সেনাবাহিনীতে নাম লেখানো রাজনীশের। ছোট থেকেই ছিল আকাশে ডানা ওড়ার ইচ্ছে। সেই ইচ্ছেতে ডানা দিতেই বায়ুসেনায় যোগ দেওয়া। তারপর ভারতীয় বায়ুসেনার পাইলট হওয়া। এই পর্যন্ত সব ঠিক ছিল। কিন্তু তাল কাটে শুক্রবার। একটা দুর্ঘটনায় সব শেষ হয়ে যায়। যার পর চোখে জল নিয়ে রাজনীশের বাবা বলছেন, ‘গতকালই ওর জন্মদিন ছিল। আমরা সকালে ওকে ফোন করেছিলাম। কিন্তু ও বলল আমি ব্যস্ত।’ মৃত পাইলটের বাবা জানান, ‘ও শুধু বলেছিল বাবা তোমার সঙ্গে সন্ধেবেলা কথা বলব। বুদ্ধদীপ্ত ছিল, সবসময় দেশের সেবাই করতে চাইত।’ ছেলেকে হারিয়ে চোখে জল নিয়ে জানান অবসরপ্রাপ্ত বায়ুসেনা অফিসার।

মৃত্যুর সময় ৪৩ বছর বয়স হয়েছিল রাজনীশের। ২০০০ সালে ভারতীয় মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে যোগ দেন তিনি। রাজস্থানের বিকানেরে এক স্ত্রী ও ১২ বছরের ছেলেকে রেখে প্রাণ হারান রাজনীশ।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার ভারতের বায়ুসেনার সঙ্গে ভুটান বায়ুসেনার যৌথ প্রশিক্ষণ চলছিল ভুটানে। তখন ভারতীয় বায়ুসেনার চপার ভুটানের ইয়নফুলায় ল্যান্ডিংয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তেই ঘটে বিপর্যয়। নিকটবর্তী খেনটংমানি পাহাড়ে ধাক্কা খেয়ে আছড়ে পড়ে চিতা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ভারত ও ভুটানের দুই পাইলটের। বায়ুসেনার তরফে জানানো হয়েছে শুক্রবার দুপুর ১ টা নাগাদ ভুটানের ইয়নফুলায় এই দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয় বায়ুসেনার ওই হেলিকপ্টার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here