kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: কেউ ভেঙে পড়লেন কান্নায়। কেউ সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরার সামনেই উগরে দিলেন ক্ষোভ। কেউ আবার ক্ষোভ প্রকাশের মাধ্যম হিসাবে বেছে নিলেন সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়াল। কোনও নেতা আবার টিকিট না পেয়ে গোঁসা ঘরে খিল দিয়েছেন। রাস্তায় নেমে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন তাদের অনুগামীরা। এই ছিল শুক্রবার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরে রাজ্যের সার্বিক ছবি। প্রার্থী তালিকা নিয়ে দলের এই ক্ষোভের আঁচ চোখে পড়েছে রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণে। এই ধরনের ঘটনা তৃণমূলের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

টিকিট না পাওয়া নেতাদের বক্তব্য, এতদিনে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণাই মাথা পেতে নিতেন দলের প্রত্যেক নেতা-নেত্রী। কিন্তু ২০২১ কোথাও যেন সেই রাশ আলগা হয়েছে। না হলে তৃণমূল সুপ্রিমোর ঘোষণার পর দিকে দিকে বিক্ষোভ, অসন্তোষ ও কান্নায় ভেঙে পড়ার ছবি বিরল।

যে সব হেভিওয়েট নেতা এবার তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন তাদের মধ্যে প্রথম নাম সাতগাছিয়ার দু’বারের বিধায়ক সোনালি গুহ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেত্রী হয়ে ওঠার সময় থেকে সম্পর্ক। এমনকী, নিজেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির লোকের মতো ভাবতেন সোনালি গুহ। আজ তাঁকে তাঁরই জেতা আসনে প্রার্থী করেননি তৃণমূল নেত্রী। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানিয়েছেন, ‘সোনালির সুগার হাই বলে বাদ রাখা হয়েছে’। কিন্তু নেত্রীর এই যুক্তি মানছেন না সোনালি। হাউ হাউ করে কান্নায় ভেঙে পড়লেন সোনালি। এর আগে ২০১৬ সালের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে হুমকি দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধমক খান সোনালি। ২০১১ জিতে ডেপুটি মেয়র হলেও পরবর্তীতে নেত্রীর সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে সোনালির। আজ টিকিট না পেয়ে চূড়ান্ত কষ্টের মধ্যে রয়েছেন তিনি।

ভাঙড়ে টিকিট না পেয়ে প্রথমে ফেসবুকে আরাবুল ইসলাম লেখেন ‘দলে আমার প্রয়োজন ফুরিয়েছে’। তারপর সংবাদমাধ্যমের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়ে ভাঙড়ের প্রাক্তন বিধায়ক বলেন, তৃণমূল দলকে তিনি বুকে আগলে রেখেছিলেন। পরে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান তাঁর অনুগামীরা। আরাবুল স্থানীয় তৃণমূল অফিস ভেঙে দিয়েছেন বলে খবর।

আমডাঙায় দু’বারের জয়ী বিধায়ক রফিকুল রহমানকেও টিকিট না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ তাঁর অনুগামীরা। তাঁরা জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন। প্রার্থী না বদলালে তাঁরা অবরোধ তুলবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। দীর্ঘক্ষণ ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে রাখা হয়। এই কেন্দ্রে এইবার টিকিট দেওয়া হয়েছে ফরওয়ার্ড ব্লক থেকে তৃণমূলে আসা মোস্তাক মোর্তাজাকে। নলহাটি আসনে এবার তৃণমূল প্রার্থী করেছে রাজেন্দ্র প্রসাদ সিং-কে। তাতেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিদায়ী বিধায়ক মইনুদ্দিন শামস। তিনি সরাসরি দল ছাড়ার হুমকি দিয়েছেন। বসিরহাটে পরিশ্রম করার পরও তাঁকে কেন সাইডলাইনে বসিয়ে দিলেন মমতা, সেই প্রশ্ন তুলেছেন প্রাক্তন ফুটবলার-বিধায়ক দীপেন্দু বিশ্বাস।

নিজেকে অক্ষম বলে সংবাদমাধ্যমের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ‘সিঙ্গুরের মাস্টারমশাই’ রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। আগেই জানা গিয়েছিল, দলের তরফে টিকিট পাবেন না তিনি। ৮০-এর উপরে যাদের বয়স তাঁদের প্রার্থী করা হবে না। আজ সিঙ্গুর আসনে তাঁকে সরিয়ে চির প্রতিদ্বন্দ্বী বেচারাম মান্নাকে প্রার্থী করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। শিলিগুড়ি থেকে তৃণমূলের প্রার্খী হয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ওমপ্রকাশ মিশ্র। এই নিয়ে এদিন সংবাদমাধ্যমের সামনেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান নান্টু পাল। তিনি স্থানীয় প্রার্থী চেয়েছেন। এই অবস্থায় তাঁকে তাঁর ‘ভবিষ্যতের কথা ভাবতে হবে’, বলে অন্য দলে পাড়ি দেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here