ডেস্ক: ভারতের জন্য ক্রমশ মাথাব্যাথার কারণ হয়ে উঠছে চিনের শক্তিবৃদ্ধি। বিশেষ করে ড্রাগনের দেশ যেভাবে এশিয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় নিজের একের পর এক রণতরী নামাচ্ছে তা কপালে ভাঁজ ফেলেছে ভারতের। এই সমস্যার সঙ্গে মোকাবিলা করতে এবার ভিয়েতনামের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে আগামী সপ্তাহেই মহড়ায় নামতে চলেছে এই দুই দেশের নৌসেনা। এই মহড়ার মাধ্যমে বিস্তারবাদি মানসিকতা চিনের উপরও নজর রাখতে চাইছে ভারত। এর মধ্যেই জানা গিয়েছে, ভারত ও ভিয়েতনামের মৈত্রী আরও ঘনিষ্ঠ করতে এবং এই মহড়ার বিষয়ে বিস্তারে আলোচনা করতে আগামী সপ্তাহে চিন সফরে যাবেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ।

এই মহড়ার জন্য ভারতের বেশ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ সোমবার ভিয়েতনামের তিয়ন শা বন্দরে পৌঁছে যাবে। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া ও উত্তর পশ্চিম এলাকায় মজুদ ভারতীয় রণতরী INS সহযাত্রী, মিসাইল ছুঁড়তে সক্ষম যুদ্ধজাহাজ INS কমোরতা, ফ্লিট ট্যাঙ্কার INS শক্তি মহড়ায় অংশ নিতে ভিয়েতনাম পৌঁছাবে।

নৌসেনার প্রবক্তা ক্যাপ্টেন ডিকে শর্মা জানান, ”২১ থেকে ২৫ মে’র মধ্যে দুই দেশের নৌসেনা আধিকারিকরা নিজেদের মধ্যে আলাপচারিতা করবেন। ভিয়েতনামের সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তাদের একপ্রস্থ আলোচনা হবে। এরপর দুই দেশের নৌসেনা একসঙ্গে মহড়ায় নামবে।” উভয় দেশের মধ্যে এই সামরিক বন্ধন আরও মজবুত করতেই ভিয়েতনাম সফর করবেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। শুধু তাই নয়, চলতি বছরের শেষেই ভিয়েতনামের স্থল সেনা প্রধান ও নৌসেনা ভারত সফরে আসবেন।

দুই দেশের সামরিক জোটের প্রক্রিয়া এখানেই শেষ ভাবলে ভুল হবে। খুব শীঘ্রই ভারতীয় পাইলটরা শুখোই-৩০ বোমারু বিমান ওড়ানোর প্রশিক্ষণও ভিয়েতনামের পাইলটদের দেবে বলে জানা গিয়েছে। ভিয়েতনাম ছাড়াও ইতিপূর্বে সিঙ্গাপুর, মায়ানমার, মালয়শিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ার সেনাবাহিনীকে একই ধরণের প্রশিক্ষণ দিয়েছে ভারত। চিনের থেকে যাতে সর্বদা একধাপ এগিয়ে থাকা যায় সেই উদ্দেশ্যেই ক্রমশ দক্ষিণ এশিয়ার বাকি দেশগুলির মধ্যে নিজেদের ক্ষমতার পরিচয় দিতেই এত সক্রিয়ভাবে একের পর এক অনুশীলনে অংশগ্রহন করছে ভারতীয় সেনারা।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here