ডেস্ক: তাৎক্ষণিক তিন তালাককে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করার জন্য অর্ডিন্যান্স পাশ করেছিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা৷ এবার সেই তিন তালাক অর্ডিন্যান্সেই সই করলেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ৷ এবার থেকে তিন তালাক শাস্তিযোগ্য অপরাধই৷ এই প্রথা তুলে দিতে আগেই পদক্ষেপ নিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার৷ লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও রাজ্যসভায় পাশ হয়নি সেই বিল৷ এর জন্য বিরোধী দলের রাজনৈতিক কৌশলকেই দায়ি করেছিল নরেন্দ্র মোদী সরকার৷ কিন্তু এবার পাশ হল তিন তালাক অর্ডিন্যান্স৷ সম্মতি জানালেন রাষ্ট্রপতি৷

অর্ডিন্যান্সের পরে এবার থেকে তিন তালাকের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে তিন বছরের জেল ও জরিমানা দিতে হবে দোষীদের। এছাড়াও নির্যাতিত স্ত্রীকে ভরণপোষণ দেওয়াও বাধ্যতামূলক করা হল। প্রসঙ্গত, কেন্দ্রের আনা তিন তালাক বিলে বলা হয়েছিল, কোনও মুসলিম পুরুষ ‘তালাক’ শব্দটি তিনবার ব্যবহার করে তার স্ত্রীকে ত্যাগ করতে পারবে না৷ এমনকি সোশ্যাল সাইট যেমন ফেসবুক, ওয়াটস্যাপেও তিন তালাক দেওয়া আইনত অপরাধ৷ যদি এমনটা হয় তাহলে ব্যক্তির তিন বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে৷ বিলে আরও বলা হয়েছে, স্ত্রী এবং তার সন্তানকে অস্তিত্বভাতা দিতে হবে৷ শিশুর বয়স কম হলে তার দায়িত্ব দেওয়া হবে মাকেই৷

অবশ্য তিন তালাক বিল নিয়ে তরজা আগেও ছিল, অর্ডিন্যান্স পাশের পর তা আরও বেড়েছে৷ ইতিমধ্যেই তিন তালাক বিল পাশের দেরি হওয়ায় সরাসরি কংগ্রেসকে দায়ি করেছেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ৷ কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্ক পলিটিক্সকে কাঠগড়ায় তুলে তীব্র কটাক্ষ করেছেন তিনি৷ অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের এই অর্ডিন্যান্স অসাংবিধানিক বলে মন্তব্য করেছিলেন এআইএমআইএম প্রধান আসাউদ্দিন ওয়েসি৷ উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে তাৎক্ষণিক তিন তালাককে বেআইনি ও অসাংবিধানিক বলে রায় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট৷ এরপরেও তিন তালাক নিয়ে অভিযোগের হার কম ছিল না দেশে৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here