জমি নেই, চাষ করলেন কেরালার ইলিয়াস শমিকা! চাষের দুনিয়ার ঐতিহাসিক বিপ্লব

0
2341
kolkata bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: জমি ছাড়া চাষ করা যায় নাকি? উত্তর হবে না। এটাই বাস্তব আর এটাই সত্যি। কিন্তু বাস্তবকে একেবারে উল্টে দিলেন কেরালার ভূমিহীন দম্পতি। জমি ছাড়াই চাষ করে ফেললেন! চাষের দুনিয়ার এক ঐতিহাসিক বিপ্লব ঘটিয়েছেন কে পি ইলিয়াস এবং শমিকা। কিন্তু কীভাবে এমন কাণ্ড ঘটালেন এই দম্পতি তা নিয়ে হাজার প্রশ্ন ইতিমধ্যেই ঘোরাফেরা করছে। অনেকে বলছেন, এ তো একেবারে ভূতুড়ে কাণ্ড ঘটিয়েছেন ইলিয়াস এবং শমিকা। চুপি চুপি ঘটিয়ে ফেললেন এই বিপ্লব। উত্তরটা হল, অরগ্যানিক ফার্মিং অর্থাৎ জৈব পদ্ধতিতে তাঁরা এই কাজটি করে ফেললেন।

কিন্তু কীভাবে এই অলৌকিক কাণ্ডটি তাঁরা ঘটালেন সেই বিষয় ইলিয়াস জানান, অরগ্যানিক ফার্মিংয়ের বিষয় নিয়ে তিনি সবসময়েই আগ্রহী ছিলেন। শুধু ইলিয়াসই নন তাঁর স্ত্রী শমিকাও এই বিষয়ের সম্পর্কে অবগত। দুজনের পছন্দ প্রায় একই বলা যেতে পারে। এই বিষয় নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন এবং পরে তা কৃষিকাজে এই বিপ্লব ঘটান।কেরালার কোজিকোড জেলার চেরুভন্নুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ইলিয়াস। তবে তাঁর ছোট বেলার দিনগুলো একেবারেই ভালো ছিল না। দারিদ্রতার মধ্যে ইলিয়াসের সংসার চলছিল তাঁর।

ইলিয়াস জানান, বাবা কারখানায় কাজ করতেন। দরিদ্র আমাদের সঙ্গী ছিল। এমনকি মাধ্যমিক পরীক্ষায় আমি পাশ করতে পারিনি। তবে ছোট থেকেই আঁকায় আমার মন ছিল। সময় পেলেই আঁকাতে বসতাম। এরপর মা আমাকে আঁকার বিষয়ে একটি কাজ খুঁজে দেন। ব্যানার, পোস্টার বানাতাম। যেই দোকানে ইলিয়াস কাজ করতেন তার পাশে ছিল একটা ছোট নার্সারি। আর সেখান থেকেই নার্সারির বিষয়ে তাঁর ভালোবাসা জাগে।

তিনি বলেন, ওই দোকানের মালিকের নাম ছিল জোজি। চাষবাস সংক্রান্ত অনেক বই সংগ্রহ করতেন ইলিয়াস। ‘ওরে ভূমি ওরে জীবন’ নামে একটি সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন কিনে রাখতেন তিনি। সেই ম্যাগাজিন থেকেই চাষবাসের বিষয় সম্পর্কে জানতে পারেন তিনি। এরপরেই অরগ্যানিক ফার্মিংয়ের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ জাগে। তবে ইলিয়াসের সঙ্গে অনেকটাই অমিল তাঁর স্ত্রী শমিকার জীবন।

শমিকা কিন্তু মাইক্রোবায়োলজি নিয়ে পড়াশুনা করেছেন। গবেষণা ছেড়ে তিনি অরগ্যানিক ফার্মিংয়ের বিষয়ে এগিয়ে আসেন। কফি চাষ নিয়ে কাজ করছেন তিনি। এই বিষয়টি শমিকার জীবনে তখন আসে যখন খবরের কাগজে কৃষক আত্মহত্যার ঘটনা দিনের পর দিন বেড়েই চলছিল। চাষের অভাবে অনেক কৃষক ভাইয়েরা নিজেদের জীবন দিয়ে দিতেন। আর তাদের কথা মাথায় রেখেই শমিকা চাকরি ছেড়ে কৃষকদের উন্নয়নের কথা ভেবেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here