ফের ডেঙ্গুতে মৃত্যু দেগঙ্গায়, হাবরা হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিনিধি দল

0
61

নিজস্ব প্রতিবেদক, বনগাঁ: ফের জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু দেগঙ্গায়। এবার উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গা ব্লকের আমুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের কলাপোল এলাকায় শিবানী দে (৩২) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হল। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে শিবানীর পরিবারের দাবি। এই দাবি সত্যি হলে দেগঙ্গায় গত তিনদিনে দু’জনের ডেঙ্গুতে মৃত্যু হল। আতঙ্কছড়িয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত চারদিন ধরে জ্বরে ভোগার পর শিবানীকে প্রথমে বিশ্বনাথপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার ক্রমে অবনতি হওয়ায় তাঁকে বারাসত জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। রবিবার সকালে ওই হাসপাতালেই শিবানীর মৃত্যু হয়। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েই শিবানীর মৃত্যু হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেনি। তবে তাঁর পরিবারের দাবি, ডেঙ্গু জ্বরেই শিবানীর মৃত্যু হয়েছে। কেননা ইদানীংকালে বনগাঁ, হাবরা, দেগঙ্গা ব্লকে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। গত শুক্রবারও আমুলিয়া পঞ্চায়েতের ঝিকুড়িয়া গ্রামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। কলাপোল এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই এক-দুজন করে জ্বরে ভুগছে। এলাকায় মশার প্রকোপও বেড়েছে। অথচ পঞ্চায়েতোর তরফে মশা দমনের কোনও চেষ্টাই নেই।

কেবল দেগঙ্গা নয়, সমগ্র বনগাঁ মহকুমাবাসীর একই অভিযোগ। ক্রমশ ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে বনগাঁ মহকুমা জুড়ে। বনগাঁ, বাগদা, চাঁদপাড়া ও গোপালনগর এলাকা থেকে প্রায় ৯০ জন রোগী ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এছাড়া অনেকে বাড়িতে এবং বেসরকারি নার্সিংহোমে চিকিৎসা করাচ্ছেন। বনগাঁ মহকুমা প্রশাসনও এলাকায় ডেঙ্গু প্রকোপের কথা স্বীকার করে নিয়েছে। গাইঘাটার জলেশ্বর, ধর্মপুর ও ঘোজা এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বলেও প্রশাসন জানিয়েছে। এর জন্য স্থানীয় প্রশাসনকেই দায়ী করেছে এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, প্রতিনিয়ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হলেও কাজের ক্ষেত্রে যথেষ্ট খামতি রয়েছে। আইসিডিএস ও স্বাস্থ্যকর্মীরা গ্রামে এলেও ঠিকমত কাজ করছেন না। রাস্তাঘাট, নিকাশি নালাও ঠিকমত সাফাই হচ্ছে না। তার ফলেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না ডেঙ্গু।

স্বাস্থ্য দফতরের তরফে অবশ্য ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে যথাসাধ্য চেষ্টা করা হচ্ছে। ডেঙ্গু-পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার জন্য শনিবার স্বাস্থ্য দফতরের তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল হাবড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশিকা মেনে ঠিকমত চিকিৎসা হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে খোঁজ খবর নেন তাঁরা। সুপার সহ হাসপাতালের অন্যান্য চিকিত্সকদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন। এমনকি ওয়ার্ডে গিয়ে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগী ও ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা নার্সদের সঙ্গেও কথা বলেন স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিনিধিরা। গত দু’দিনে হাবরা হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরের কারোর মৃত্যু না হলেও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হওয়ার সংখ্যা কমেনি বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল সুপার। তিনি জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা শতাধিক। প্রতিদিনই জ্বরে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছে হাসপাতালে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশে অতিরিক্ত ৩৫টি শয্যা আনা হয়েছে এবং চিকিত্সকদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে হাবরা হাসপাতালের সুপার জানিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here