বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়ির সামনে ধর্নায় বসলেন প্রেমিকা, চাঞ্চল্য চোপড়ায়

0
717
kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, ইসলামপুর: চোখাচুখি থেকেই জন্মেছিল আগ্রহ। হয়েছিল আলাপও। সেই আলাপই গড়ে দিয়েছিল প্রেমের সেতু। একে অপরের প্রতি ছিল অঙ্গীকার, ঘর গড়ার – সংসার করার। একে অপরের সুখদুঃখ ভাগ করে নেওয়ার। একে অপরের পাশে থাকার। এই অঙ্গীকারই প্রেমিকার দুই চোখে স্বপ্ন বুনে দিয়েছিল। সেই স্বপ্নে বিভোর হয়েই নিজেকে প্রেমিকের হাতে তুলে দিতে দ্বিধা করেননি প্রেমিকা। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েই শুরু হয়ে গিয়েছিল প্রেমিকার শরীর নিয়ে নিত্যদিনের খেলা। তারপর একদিন সেই শরীরও হয়েছে পুরানো। তখন নতুন শরীরের সন্ধানে নেমে পড়ে প্রেমিকাকে চূড়ান্ত রকমের প্রত্যাখান করতেও দ্বিধাবোধ করেনি ভোগবাদের মানসিকতা নিয়ে চলা সেই প্রেমিক। কিন্তু প্রত্যাখান মানতে নারাজ প্রেমিকা। তাই বিয়ে করার দাবি নিয়েই বসে পড়লেন প্রেমিকের বাড়ির সামনে ধর্নায়। সেই ধর্নাই শোরগোল ফেলে দিল এলাকায়। ঘটনাস্থল উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুর মহকুমার চোপড়া থানার ধিয়াগর গ্রাম।

জানা গেছে, চোপড়া থানার কাচাকলি গ্রামের বাসিন্দা রমিসা খাতুনের ভালবাসার সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল ধিয়াগর গ্রামের বাসিন্দা মনজর আলমের সঙ্গে। দীর্ঘ দুই বছর তাদের এই সম্পর্ক। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মনজর বিগত দেড় বছর ধরে সহবাস করে গিয়েছে রমিসার সঙ্গে। শিলিগুড়ি সহ বিভিন্ন এলাকায় নানা হোটেলে তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে রাত্রিবাসও করে। সম্প্রতি মনজর রমিসাকে জানিয়ে দেয় যে সে তাকে বিয়ে করতে পারবে না। কারন তার পরিবার তাদের এই সম্পর্ক মেনে নিতে রাজি নয়। পরিবারের চাপেই সে বিয়ে থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে। এনিয়ে গ্রাম্য শালিশী থেকে পঞ্চায়েত শালিশী অবধিও জল গড়ায়। সব কিছুতেই মনজরকে দোষী সাবস্ত করে রমিসাকে বিয়ে করার নিদান দেওয়া হয়। কিন্তু কয়েকদিন যাবৎ মনজরের সঙ্গে কোনও ভাবেই যোগাযোগ করতে পারছিল না রমিসা। বাধ্য হয়েই সে মঙ্গলবার তার বাড়িতে পৌছে যায় তার সঙ্গে দেখা করতে।

কিন্তু অভিযোগ, মনজের পরিবার রমিসার সঙ্গে কথা বলা তো দূর কি বাত, তাকে বাড়ির দরজায় দাঁড় করিয়ে রেখে তার গায়ে লঙ্কার গুঁড়ো ছিটিয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এরপরই বিয়ে করার দাবিতে মনজরের বাড়ির সামনে ধর্নায় বসে যায় রমিসা। তার দাবি যতক্ষণ না মনজর তাকে বিয়ে করছে ততক্ষণ সে এখানেই বসে থাকবে। এরপরই এলাকাজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। ছুটে আসেন এলাকাবাসীর পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিও। এলাকার মানুষ এবং স্থানীয় তৃনমূল কংগ্রেস নেতারাও জানিয়েছেন, সর্বসন্মতিক্রমে বিয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সিদ্ধান্ত মেনে না নিলে তারা রমিসার পক্ষ নিয়েই আইনের দারস্থ হবেন। যদিও এতকিছুর মধ্যেও মনজরের মায়ের অভিযোগ, প্রতিবেশীরা তার ছেলেকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। ছেলে তার নির্দোষ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here