kolkata bengali news

ডেস্ক: মাত্র ২০ কেজি ওজন, শরীরে নেই কোনও মাংস। দুবেলা খাবারের বদলে জুটত মার। দিনের পর দিন চলত এই নির্মম অত্যাচার। শেষে প্রাণ গেল ২৭ বছরের এক তরুণীর। মেয়ের মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পণের দাবিতে মেয়ের ওপর অত্যাচার চালাত শ্বশুরবাড়ির লোকজনেরা। খেতে দেওয়া হত না বলে অভিযোগ মৃতার পরিবারের। চুপি চুপি মৃতদেহ দাহ করার চেষ্টায় ছিল মৃতার স্বামী ও শ্বশুর। কিন্তু শেষমেষ রক্ষা হল না। পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। মৃতদেহ উদ্ধার করতে গিয়ে হতবাক হয়ে যায় পুলিশ। সাদা চাদরে মোড়া দেহ পুরোটাই কঙ্কালে পরিণত হয়েছে। দেহে মাংসের কোনও ছিটে ফোটা নেই। চোখ একেবারে ভিতরে ঢুকে গেছে। শরীরের একাধিক ক্ষত চিহ্নের দাগও মিলেছে। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে কেরলের করুণাগাপ্পালি এলাকায়।

মৃতার মায়ের দাবি, বিয়ের পর থেকে মেয়ের ওপর অত্যাচার শুরু করে তারা। পণের দাবিতে মেয়েকে মারধরও করা হত। এমনকি তাকে খেতে দেওয়া হত না বলে অভিযোগ। এক প্রতিবেশীর দাবি, খাবার জুটত শুধু একবেলা। ভিজে চাল আর চিনির রস খেতে দেওয়া হত। এই খেয়েই দিন কাটাতে হত ওই যুবতীর। শরীরের রোগের বাসা বেঁধেছিল। যার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। সূত্রের খবর, ২০১৩ সালে বিয়ে হয় ওই যুবতীর। বিয়ের পরের দিন থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজনেরা পণের দাবিতে অত্যাচার শুরু করে। মৃতার বাবা জানান, বিয়ের সময় সবকিছু দিয়েছিলাম। যতটুকু সম্ভব ছিল সব করেছি আমরা। কিন্তু কিছুতেই তাদের চাহিদা মিটছিল না। নিত্যদিনই কোনও না কোনও নতুন চাহিদা করতে থাকত। দাবিপূরণ না করতে পারায়, আমার মেয়ের ওপর অত্যাচার করা হত। শেষমেষ তার প্রাণ নিয়েই নিল। দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান মৃতার পরিবার।

উল্লেখ্য, পণ প্রথা নিয়ে কড়া আইন থাকলেও এই ধরনের অপরাধ আটকানো যাচ্ছে না। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর ২০১৬ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রত্যেকদিনই প্রায় ২১ জন মহিলা পণের শিকার হচ্ছেন। পণপ্রথা আটকানোর জন্য ভারতের ফৌজদারি আইনও জোরদার করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here