kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া ও নদিয়া: দেশব্যাপী লকডাউন চলছে। সেই নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দক্ষিণ পূর্ব রেলের আদ্রা ডিভিশনের আদ্রা ওয়ার্কশপে চলছে কাজ। রেলের এই ওয়ার্কশপে গিয়ে দেখা গেল, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণকে গ্রাহ্য না করে বিনা সেফটিতে কাজ করে চলেছেন শ্রমিকরা। শ্রমিকরা জানান, তাঁরা নিজেরা নিজেদের মতো সেফটি নিয়ে কাজ করে চলছেন। দল বেঁধে একসঙ্গে কাজ করা প্রসঙ্গে শ্রমিকদের সোজাসাপ্টা জবাব, এ ব্যাপারে কোনও কাগুজে নির্দেশ না আসায় তাঁরা আগের মতোই দল বেঁধে কাজ করে চলছেন। এ ব্যাপারে এই ওয়ার্কশপের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক অভিষেক কুমার বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা কিছু না করলে তার কিছু করার নেই। করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় এখনও তাদের কাছে কিছুই দেওয়া হয়নি

এলাকার বিজেপি নেতা গণেশ কুমার সিং কেন্দ্র সরকারের অধীন রেলের গাফিলতিকেই দুষেছেন। তিনি জানান, কাল রাত ১২টায় প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী লকডাউনের নির্দেশ দেওয়ার পরেও আদ্রার রেলের ওয়ার্কশপে এই লকডাউন উপেক্ষা করেই কাজ হচ্ছে। স্যানিটাইজার, মাস্ক কিছুই দেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তপক্ষকে জানাবেন। প্রশ্ন উঠছে, গতকাল রাতেই প্রধানমন্ত্রী যেখানে টানা একুশ দিন দেশব্যাপী লকডাউনের নির্দেশ দিয়েছেন, তারপরেও রেলের ওয়ার্কশপে কী করে চলছে কাজ? যেখানে কেন্দ্র সরকারের অন্যতম লাভজনক গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। সেখানে সেই রেল মন্ত্রকের অধীনে রেলওয়ে ওয়ার্কশপে কীভাবে কেন্দ্র সরকারের আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জমায়েত করে কাজ হচ্ছে? ওয়ার্কশপে কাজ করা শ্রমিক থেকে কর্তৃপক্ষ করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে যে সম্পূর্ণ নির্বিকার তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।

অন্যদিকে, নদিয়ার হরিণঘাটা মিট ফার্মে একসঙ্গে প্রায় ১৩০ জন কর্মী এক জায়গায় জড়ো হয়ে কাজ করে চলেছেন। হরিণঘাটা মিট ফার্ম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরকারের অনুমতি নিয়েই চলছে কাজ। এবং সরকারের যাবতীয় নিয়ম মেনেই কাজ করছেন কর্মীরা। বিভিন্ন হোটেলে মাংসের অর্ডার রয়েছে। তাই কাজ চলছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, মুদি, ওষুধ দোকান ছাড়া এখন বন্ধ সমস্ত দোকান। তা হলে কোন হোটেলে এই মাংস যাচ্ছে? তার সদুত্তর অবশ্য পাওয়া যায়নি। তাই করোনা নিয়ে আতঙ্কিত মিট ফার্মের কর্মীরা। এই বিষয়ে প্রশাসন মুখ খুলতে চায়নি। সূত্রের খবর, সরকারের অনুমতি রয়েছে। তবে একসঙ্গে এতজন কাজ না করার কথা বলা হয়েছে মিট ফার্ম কর্তৃপক্ষকে। প্রশাসন বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবে বলে জানা গিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here