Home Featured অসুস্থ ছেলের জন্য করছিলেন চাকরি, শুভেন্দু অধিকারীকে আটকাতে না পেরে কাজ হারালেন নিরাপত্তারক্ষী!

অসুস্থ ছেলের জন্য করছিলেন চাকরি, শুভেন্দু অধিকারীকে আটকাতে না পেরে কাজ হারালেন নিরাপত্তারক্ষী!

0
অসুস্থ ছেলের জন্য করছিলেন চাকরি, শুভেন্দু অধিকারীকে আটকাতে না পেরে কাজ হারালেন নিরাপত্তারক্ষী!
Parul

মহানগর ডেস্ক: ভুয়ো ভ্যাকসিন কাণ্ডের প্রতিবাদে স্বাস্থ্য ভবনের দলবল নিয়ে ঢুকে পড়েছিল বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেই বিরোধী দলনেতাকে আটকাতে পারেনি সে গেটের দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তারক্ষী সুশীল দাস। এর পরে তাকে চাকরি থেকে বসিয়ে দেওয়া হয়। একটি বেসরকারি সংস্থার হয়ে তিনি এই কাজে ঢুকেছিলেন। তারপর তাকে জানানো হয়েছে, চাপ আছে তাই তাকে বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

বাবার রোজগারেই অসুস্থ ছেলের চিকিৎসা চলে। সুশীল দাস এর ২৫ বছরের ছেলে সৈকত মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন। স্নায়ু রোগের আক্রান্ত চিকিৎসার খরচ প্রচুর। যার কারণে ৬৩ বছর বয়স হওয়া সত্বেও স্বাস্থ্য ভবনের রক্ষীর কাজ করতেন অসহায় বাবা। চাকরি থেকে সল্টলেকের কর্মস্থলে নিয়মিত যাতায়াত করতেন তিনি। কিন্তু ভাগ্য সঙ্গ দিলো না।

২৫ জুনের ঘটনা। সেই দিন স্বাস্থ্য ভবনে গিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। স্বাস্থ্য সচিবকে স্মারকলিপি জমা দিতে। কিন্তু স্বাস্থ্য ভবনে ঢোকার সময় বাধা দিয়েছিল নিরাপত্তারক্ষী। কিন্তু রাজনীতির বল এর কাছে দ্বাররক্ষক এর বল কোনও ভাবেই কাজ করে না। তাই নিরাপত্তারক্ষীকে ঠেলেই শুভেন্দু অধিকারী ঢুকে যান স্বাস্থ্য ভবনে।

এই প্রসঙ্গে সুশীল দাস জানায়, একসময় বিএসএফের কনস্টেবল ছিলেন তিনি। এখন পেনশনে কোনোক্রমে সংসার চলে। স্ত্রী পঞ্চায়েত সদস্য হওয়া সত্ত্বেও তার টাকায়ও সামান্য সাহায্য হয়। কিন্তু ছেলেটির চিকিৎসার খরচ যোগাতে হিমশিম খেতে হয় সুশীল বাবু। সুশীল বাবু আবেদন করেছেন, একবারও কি দ্বিতীয় সুযোগ পেতে পারেন না তিনি।

এই প্রসঙ্গে মানবাধিকারকর্মী রঞ্জিত সুর জানিয়েছেন, ‘এটাতো তুঘলকী রাজত্বে চলে। স্বাস্থ্য ভবন কারোর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নাকি! সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য উন্মুক্ত একটা দপ্তর। সেখানে যে কেউ যেতে পারে। আমার মতে ওই ব্যক্তির চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া উচিত। তার অসুস্থ ছেলের দায়িত্ব সরকারকে নেওয়া উচিত’। জয়প্রকাশ মজুমদার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তৃণমূলের আক্রোশে রাজনীতির এটা আরেকটা ছবি। একটা বয়স্ক নিরাপত্তাকর্মী, তার উপর গায়ের ঝাল মেটাচ্ছেন। এটা খুবই ক্ষুদ্র রাজনীতি। মানুষ এগুলো দেখে নিশ্চয়ই মাথা চাপড়াচ্ছেন। এরকম একটা নীতিহীন দলকে ক্ষমতায় এনে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here