ডেস্ক: আর কয়েক ঘন্টার অপেক্ষা৷ রবিবার ভারতীয় সময় রাত আটটায় বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স-ক্রোয়েশিয়া৷ দুই দশক আগে কিংবদন্তি জেদিন জিদানের স্পর্শে নিজেদের দেশের মাটিতে প্রথমবারের জন্য বিশ্বজেয়র স্বাদ পেয়েছিল ফরাসিরা৷ এবারও রং রাশিয়ায় শুরু থেকেই চলছে ফরাসি বিপ্লব৷ অন্যদিকে, প্রথমবারের জন্য ফাইনালের টিকিট পেয়েছে দাভর সুকেরের দেশ ক্রোয়েশিয়া৷ মস্কোর লুজনিকি স্টেডিয়ামে রূপকথার ফাইনালে কে হাসবে শেষহাসি? কার চোখের কোনে উঁকি মারবে জল৷ তা জানার জন্য আরও একটা রাত আপনাকে অপেক্ষা করতেই হবেষ তার আগে দেখে পরিসংখ্যানে দেকে নেওয়া যাক দুই দেশের বিশ্বকাপ পারফরম্যান্স৷

(১) তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট পেয়েছে ফ্রান্স। ১৯৯৮ সালে ঘরের মাঠে নিজেদের একমাত্র বিশ্বকাপ জয়ের পর ২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপে ইতালির কাছে ফাইনালে হারে ফরাসিরা।

(২) তবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফাইনালে পা রেখেছে ক্রোয়েশিয়া। ১৯৯১ সালে যুগোস্লোভিয়া ভেঙে যাওয়ার পর ৬টি বিশ্বকাপের পাঁচটিতেই খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ক্রোটরা। ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপে নিজেদের অভিষেক মঞ্চে সেমিফাইনালের টিকিট পেয়েছিল তারা৷ সেবার চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের কাছে সেমিফাইনালে হারের পর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী খেলায় জয় পায় নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। এটাই ছিল চলতি রাশিয়া বিশ্বকাপের আগে ফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ক্রোয়েশিয়ার৷

(৩) চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের তিনটি নক-আউট ম্যাচেই অতিরিক্ত সময় খেলতে হয়েছে ক্রোয়েশিয়াকে। প্রি-কোয়াটার ফাইনালে ডেনমার্ক ও কোয়ার্টার ফাইনালে আয়োজক রাশিয়ার বিপক্ষে জয় আসে টাই-ব্রেকারে। আর সেমিফাইনালে মারিও মানজুকিচের অতিরিক্ত সময়ের গোলে ইংল্যান্ডকে ছিটকে দিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্ব ফুটবলের মহামঞ্চে জায়গা করে নেয় দালিচের দল।

(৪) নক-আউট পর্বের তিন ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার চেয়ে পুরো ৯০ মিনিট কম খেলেছে ফ্রান্স। দুই ম্যাচের টাই-ব্রেকারের সময় বাদেই ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড়দের তিন ম্যাচে মাঠে থাকতে হয়েছে ৩৬০ মিনিট। বিপরীতে ফাইনালে পৌঁছাতে তিনটি নক-আউট ম্যাচে ফ্রান্সের খেলোয়াড়রা মাঠে ছিলেন মোট ২৭০ মিনিট।

(৫) দুটি জয় ও একটি ড্র নিয়ে ‘সি’ গ্রুপের থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে নক-আউট পর্বে পা রাখে ফ্রান্স। শেষষোলোয় মেসির আর্জেন্তিনাকে হারানোর পর কোয়ার্টার ও সেমিফাইনালে পেরোয় যথাক্রমে উরুগুয়ে ও বেলজিয়ামের বাধা টপকে। প্রতিটি ম্যাচই শেষ হয়েছে ৯০ মিনিটে।

(৬) নক-আউট পর্বের তিন ম্যাচে ৭টি গোল করেছে ফ্রান্স৷

(৭) দুই বছরের ব্যবধানে দুটি বড় মাপের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ফাইনালে পৌঁছালো ফ্রান্স। ২০১৬ সালে ঘরের মাঠে ইউরোর ফাইনালে উঠেছিল দিদিয়ের দেশমের দল। অবশ্য সেবার রোনাল্ডোর পর্তুগালের কাছে ১-০ গোলে হারতে হয় তাদের৷

(৮) দুটি করে গোল করে চলতি বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার সর্বোচ্চ গোলদাতা মিডফিল্ডার লুকা মদ্রিচ, ফরোয়ার্ড মারিও মানজুকিচ ও ইভান পেরিসিচ। প্রতি ম্যাচে গড়ে দুটি করে গোল করেছে ক্রোয়েশিয়া। এখনও পর্যন্ত ৬টি ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ১২বার বল জড়িয়েছে তারা। হজম করেছে ৫টি গোল।

(৯) ফাইনালে মাঠে নামলে ক্রোয়েশিয়ার হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ (১১টি) খেলার রেকর্ড ভাঙবেন ৩২ বছর বয়সী লুকা মদ্রিচ। টুর্নামেন্টে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে পরিশ্রমী খেলোয়াড় ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক। ফিফার পরিসংখ্যান অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত ৬৩ কিলোমিটার দৌড়েছেন এই মিডফিল্ডার।

(১০) চলতি রাশিয়া বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত ফ্রান্সের হয়ে সবচেয়ে বেশি তিনটি করে গোল করেছেন ফরোয়ার্ড অঁতোয়ান গ্রিজম্যান ও কিলিয়ান এমবাপে। ৬টি ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে দশ গোল দেওয়ার পাশপাশি ফ্রান্স হজম করেছে ৪টি গোল।

(১১) সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত দুই দলের দেখা হয়েছে পাঁচবার। একবারও ফ্রান্সকে হারাতে পারেনি ক্রোয়েশিয়া। ফ্রান্স জয় পেয়েছে ৩টি ম্যাচে৷ বাকি ২টি ম্যাচ ড্র হয়েছে৷ সঙ্গে দুটি ড্র।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here