kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: সাত সকালে ঘুম ভেঙে চোঁখ কচলাতে কচলাতে হঠাৎ করে বাড়ির মূল দরজা খুলছেন। দরজা খুলেই আত্মারাম খাঁচা। দরজার সামনে সাক্ষাৎ যমরাজ হাজির। কী করবেন ভেবে ওঠার আগেই হা হা হা করে সেই অট্টহাসি। হ্যাঁ, কিছু মনে পড়ে যাচ্ছে কি? ঠিক ধরেছেন, ভানু বন্দোপাধ্যায় ও জহর রায়ের বিখ্যাত ‘যমালয়ে জীবন্ত মানুষ’ সিনেমা কথা!পুরাণের গল্পে মানুষ মারা গেলে যমরাজ তাকে স্বর্গলোকে নিয়ে যাওয়ার কথা অনেকেই পড়েছি। চিত্রগুপ্তের খাতা খোলার পর তারপর তার বিচার হয় তার কর্মফল অনুযায়ী। অদ্ভুত বেশভূষা, মাথায় মুকুট, একহাতে গদা, কিন্তু মুখে তার মাক্স।

স্বর্গলোক ছেড়ে মর্ত্যলোকে রাস্তায় যমরাজ। অবাধ্য জনতাকে ভয় দেখিয়ে গৃহবন্দি করে রাখতে মল্ল রাজধানী বিষ্ণুপুর শহরের অলি-গলিতে রাজপথে যমরাজ। লকডাউন-এর মধ্যেও রাজ্যের অন্যান্য আর পাঁচটা শহরের মতো দিনের আলো ফোটা মাত্র রাস্তায় মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। ভিড় করে চলছে দেদার বিকিকিনি। চলছে জনতা-পুলিশের লুকোচুরি। সেইসব বেআদব মানুষকে শায়েস্তা করতেই পথে নেমেছেন যমরাজ। হঠাৎ করে তেড়ে যাচ্ছেন মুখে মাক্স না পরা মানুষের দিকে। কোথাও আবার হুমকি দিতে দেখা যাচ্ছে ভিড় করে রাস্তায় বেরনো মানুষদের। কোথাও আবার হাতজোড় করে নিবেদনের সুরে বলছেন মাক্স পরতে। অকারণে বাড়ির বাইরে পা রাখা মানুষজনকে বাড়িতে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি। এভাবেই সারাদিন ঘুরে ঘুরে প্রাচীন শহর বিষ্ণুপুরের রাস্তায় পথচলতি মানুষকে করোনা সচেতনতার দাওয়াই দিচ্ছেন।

তিনি বাঁকুড়ার মল্ল রাজধানী বিষ্ণুপুর শহরের রঘুনাথসয়েরের বাসিন্দা বছর ষাটেকের কৃষ্ণকান্ত লোহার। সাতসকালেই স্বয়ং যমরাজের পোশাক পরে কাঁধে গদা, মাথায় মুকুট চড়িয়ে বিষ্ণুপুর শহরের অলিতে-গলিতে ঘুরছেন। কোথাও রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভিড় করে থাকা মানুষকে ধমক দিয়ে অট্টহাসি হেসে দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দিলেন। কোথাও বাড়ির দরজাতে কড়া নেড়ে অপ্রয়োজনে বাড়ির বাইরে না বেরনোর দাওয়াই দিচ্ছেন। পথচলতি সাধারণ মানুষকে মাস্ক পরার কড়া বার্তা দিচ্ছেন মৃত্যুপুরীর রাজা। করোনা সংক্রমণ রুখতে দেশ জুড়ে জারি রয়েছে লকডাউন। কিন্তু কে শোনে কার কথা। সেই অবাধ্য জনতাকে গৃহবন্দি রাখতে স্বয়ং যমরাজের বেশে করোনা সচেতনতার বার্তা দিচ্ছেন শহরবাসীকে। এর ফলে আতঙ্কে কিংবা সচেতনতায় কিছুটা হলেও ঘরমুখী হবে মানুষ- এমন আশা করছে শহরবাসী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here