ডেস্ক: ২০১৩ সালে উত্তরপ্রদেশের মুজাফফরনগর ও শামলিতে সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনায় প্রাণ গিয়েছিল ৬০ জন মুসলিমের। কিন্তু এই ঘটনায় দায়ের হওয়া হিন্দুদের বিরুদ্ধে ১৩১টি মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করে দিল যোগী আদিত্যনাথ সরকার। এই মামলায় বিশেষ করে যে হিন্দু পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে সেই মামলাগুলিই বেছে বেছে প্রত্যহার করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে সংবাদ মাধ্যম সূত্রে।

প্রায় পাঁচ বছর আগের এই মামলায় ঘর ছাড়া হতে বাধ্য হয়েছিলেন বহু মুসলিম পরিবার। ক্ষমতায় থাকা তৎকালীন সমাজবাদী পার্টি সরকার এই মামলায় প্রায় ৫০০টি মামলা দায়ের করেছিল। অভিযুক্তের তালিকায় নাম ছিল প্রায় ১৫০০ জনের। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২, ৩০৭-এর মত গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এছাড়াও সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়ানোর মত গুরুতর ধারায়ও মামলা করা হয়। কিন্তু ২০১৭ সালের মার্চ মাসে উত্তরপ্রদেশে যোগী আদিত্যনাথ মসনদে বসার পর থেকেই মামলাগুলি প্রত্যাহার করা নিয়ে জল্পনার সূচনা হয়। সেই জল্পনা সত্যি করে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সঞ্জীব বলীয়ানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ১৭৯টি মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দেন। সেই স্মারকলিপিতে তিনি দাবি করেন, প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে নির্দোষদের ফাঁসিয়েছে অখিলেশ যাদবের সরকার। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলি খতিয়ে দেখতে এরপর একটি কমিটি গঠন করেন যোগী। সেই কমিটির রিপোর্ট দেখে চলতি মাসেই মামলাগুলি প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে যোগী সরকার।

এই মামলাগুলি প্রত্যাহার করায় নতুন করে সরকারকে নিশানায় নিয়েছে শাসক দলগুলি। এর মূল কারণ হিসাবে উঠে এসেছে এই হিংসার ঘটনার সঙ্গে বিজেপি বিধায়কদের যোগ। অভিযুক্তদের তালিকায় নাম রয়েছে বিজেপি বিধায়ক বুধানা উমেশ মালিক, রাজ্যের ইক্ষু মন্ত্রী সুরেশ রানা, বিজেপি বিধায়ক সঙ্গীত সোমের। প্রসঙ্গত, এর আগেও একি ধরণের একাধিক মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছিল যোগী আদিত্যনাথের পক্ষ থেকে। এমনও কিছু মামলা প্রত্যাহার করা হয় যাতে মুখ্যমন্ত্রী যোগী নিজেই অভিযুক্ত ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here