ডেস্ক: ১০টি বিধানসভা এবং ৪টি লোকসভা আসনের উপনির্বাচনের ফলাফল ক্রমশ প্রকাশ পাচ্ছে। উপনির্বাচনে উত্তর প্রদেশেই সবথেকে বড় ধাক্কা খেয়েছে বিজেপি শিবির। কৈরানা লোকসভা সহ নুরপুর বিধানসভা আসনেও হারের সম্মুখীন হয়েছে বিজেপি। যোগী আদিত্যনাথের শাসনকালে এর আগেও গোরক্ষপুর এবং ফুলপুরে লোকসভা কেন্দ্রে হারতে হয়েছিল বিজেপিকে। এবারের উপনির্বাচনেও আঞ্চলিক বিরোধী শক্তির কাছে হারতে হল বিজেপিকে। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের আগে এই ফলাফল যে খুব একটা ভাল সংকেত না, তা টের পেতে শুরু করে দিয়েছেন যোগী শাহেরা।

চলতি মাসেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লোকসভা কেন্দ্রেই ফ্লাইওভার ভেঙে পড়ার ঘটনার পর যোগীর মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ভূমিকা নিয়ে অনেক প্রশ্নচিহ্ন উঠে গিয়েছিল। এই উপনির্বাচনের পর সেই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়ে গেল। বিজেপির গড় হিসাবে পরিচিত নুরপুরেই সমাজবাদী পার্টির কাছে হেরে গিয়েছে গেরুয়া শিবির। অন্যদিকে, কৈরানা লোকসভায় আরএলডি প্রার্থী জয়ের পথে এগোচ্ছেন। বিজেপির চাপ আরও বাড়িয়ে বিহারে জোকিহাট উপনির্বাচনে জেলে বসেও খেল দেখিয়ে দিলেন লালু। এনডিএ শরিক নীতীশের দল জেডিইউকে হেলায় হারিয়েছে আরজেডি।

উপনির্বাচনের ফলাফল দেখার পর যথারীতি উচ্ছ্বসিত বিরোধীরা। একের বিরুদ্ধে এক ফর্মুলাকে কাজে লাগিয়েই বিজেপিকে হারানো সম্ভব, জয়ের পর এমন কথাই বলেন লালুপুত্র তেজস্বী যাদব। অন্যদিকে, বিজেপ্পির হারেও দল যে কোনও ভাবেই ভেঙে পড়বে না তা এদিন জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। মার্ক্সবাদী লেনিনের ভাষায় তিনি বলেন, বিরাট লাফ দিতে গেলে এক-দুই পা মাঝে মধ্যে পিছিয়েও আসতে হয়। দলের মনোবল ধরে রাখতে রাজনাথ যতই বলুন উত্তর প্রদেশের হারে যে তারা বড় ধাক্কা খেয়েছে এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। সম্ভবত এই কারণেই, দু-তিনটি বিধানসভা আসনে জয়ী হলেও বিজয় উৎসব না পালন করারই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে গেরুয়া শিবির তরফে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here