জনগনের টাকায় মন্ত্রীর আয়কর আর নয়, যোগী আমলে ঘুচল ৪ দশকের কুপ্রথা

0
1178

মহানগর ওয়েবডেস্ক: মায়াবতীই বলুন বা ব্যাবসায়ী অখিলেন প্রত্যেকেই তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করে গিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের এই প্রথাটিকে। সে যত বড় কোটিপতিই হোন না কোনও সমস্যা নেই আপনি যেহেতু মন্ত্রী সেহেতু আপনার আয়কর মেটাবে সরকার। অর্থাৎ জনগণের করের টাকায় মিটত মন্ত্রীদের কর। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে চলতে থাকা এই প্রথা সকলের নজরে পড়ার পরই মুখ রক্ষার তাগিয়ে সেই আইনের বিলোপ ঘটাল সরকার। এখন থেকে আর মন্ত্রীদের করের টাকা সরকার মেটাবে না ওটা মেটাতে হবে গ্যাঁটের টাকাতেই।

ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে গত আর্থিক বছরে। সেবার উত্তরপ্রদেশে মন্ত্রীদের আয়কর বাবদ ৮৬ লক্ষ টাকা মেটানো হয় রাজ্য সরকারের তরফে। এই খবর জানাজানি হওয়ার পর রীতিমতো চাঞ্চল্য শুরু হয়। প্রবল নিন্দার মুখে পড়ে সরকার। প্রশ্ন ওঠে রাজ্যের সমস্ত ব্যবসায়ী মন্ত্রীদের আয়কর কেন জনগনের টাকা থেকে মেটাবে সরকার। ঘটনার জেরে উত্তরপ্রদেশে বিজেপির ভাবমুর্তীতেও কোপ পড়তে থাকে। ঘরে বাইরে প্রবল চাপের মুখে পড়ে একরকম বাধ্য হয়েই এই আইন খারিজ করার নির্দেশ দেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।

উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালে তৎকালীন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী বিশ্বনাথ প্রতাপ সিংয়ের আমলে চালু হয় এই আইন। কারণ হিসাবে বলা হয়, রাজ্যের বেশীরভাগ মন্ত্রী দরিদ্র পরিবার থেকে এসেছেন তাই তাঁদের উপর নতুন করে আয়করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া যায় না। এই যুক্তি খাটিয়েই মুখ্যমন্ত্রী সহ রাজ্যের সমস্ত মন্ত্রীদের আয়কর ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে মেটানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর থেকে যতজন মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন সে যত টাকার মালিকই হোক না কেন জনগনের টাকায় মিটেছে তার আয়কর। যেমন উত্তরপ্রদেশের গদিতে বসেছেন ১১১ কোটি টাকা সম্পত্তির মালিক মায়াবতী, ৩৭ কোটি টাকা সম্পত্তির মালিক অখিলেশ যাদবের মতো নেতারা। এক পয়সাও কেউ আয়কর দেয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here