pm modi nari shakti

মহানগর ওয়েবডেস্ক: রবিবার বিকেলে ‘নারীশক্তি’ পুরস্কারপ্রাপ্তদের সঙ্গে দিল্লিতে নিজের বাসভবনেই দেখা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি অনুরোধ করেন, ভারতের ‘নারীশক্তি’রা যেন দেশের অপুষ্টি দূরীকরণ এবং জল সংরক্ষণের জন্য এগিয়ে আসেন। এদিন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে উপস্থিত ছিলেন ‘নারী শক্তি পুরস্কার’ বিজয়ী ১৫-১৬ জন। তাদের উদ্দেশেই প্রধানমন্ত্রীর আবেদন, দেশ গড়তে আপনারাও এগিয়ে আসুন।

এদিন ‘নারীশক্তি’দের উদ্দেশ্য করে নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘যে কোনও কারণেই হোক আপনারা জনগণকে একত্রিত হতে উৎসাহিত করেন। আপনারা যখন নিজের নিজের কাজ শুরু করেছিলেন, তখন অবশ্যই একটা লক্ষ্য নিয়ে নেমেছিলেন, বা স্রোতের সঙ্গে ভেসে গিয়েছিলেন। সেটা কোনও পুরস্কার পাওয়ার মনোভাবের সঙ্গে না করলেও আজ আপনারা অন্যদের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন।’ প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি এদিন তাঁর বাসভবনে উপস্থিত ছিলেন আমেঠির সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। রায়গঞ্জের সাংসদ ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী।

অন্যদিকে এদিন দুপুরে রাষ্ট্রপতি ভবনে সমাজকে দিশা দেখানো একাধিক মহিলাদের হাতে ‘নারী শক্তি পুরস্কার’ তুলে দেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। ভারতীয় বায়ুসেনার প্রথম তিন মহিলা উইং কমান্ডর তথা পাইলট; মোহনা জিতারওয়াল, অবনী চতুর্বেদি, ভাবনা কান্থ। তিনজনকেই এদিন ‘নারী শক্তি পুরস্কার’ দেন রাষ্ট্রপতি। ২০১৮ সালে এই তিনজনই প্রথমবার একা মহিলা হিসেবে মিগ-২১ যুদ্ধবিমানে সওয়ার হয়েছিলেন। অ্যাথলেটিক্সে অসম্ভবকে সম্ভব করে রাষ্ট্রপতির হাত থেকে এই পুরস্কার পান ১০৪ বছরের মান কৌর। তিনি পরিচিত ‘চণ্ডীগড়ের মিরাকেল’ হিসেবে। অ্যাথলেটিক্সে নানা খেলায় বিশ্বজুড়ে ৩০টির বেশি মেডেল নিজের নামে করেছেন এই মহিলা।

আদিবাসী মহিলা, বিধবাদের এগিয়ে নিয়ে তাদের জন্য কাজ করার সুবাদে ‘নারী শক্তি পুরস্কার’ সম্মানে ভূষিত করা হয় তেলেঙ্গানার পদালা ভূদেবীকে। ১৯৯৬ সাল থেকে নিরলসভাবে এই কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। এছাড়াও দেশে অটোমোবাইল প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার জন্য এই সম্মান দেওয়া হয় রশমি ঊর্ধ্ববরদের্শীকে। দেশে অটোমোবাইল প্রযুক্তির উন্নতিকরণের পিছনেও অগ্রণী ভূমিকা নেন তিনি।

ভূস্বর্গ জম্মু এবং কাশ্মীরের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনার ক্রমাগত প্রচেষ্টাকে চিহ্নিত করে ‘নারী শক্তি পুরস্কার’ দেওয়া হয় শ্রীনগরের আফরা জানকে। এই পুরস্কার পাওয়ার পর আফরা বলেন, ‘আমার স্বামী এবং বাবার সমর্থনে রক্ষণশীল সমাজের মনস্তত্ত্বের বিরুদ্ধে লড়ে আজ এই জায়গায় আসতে সক্ষম হয়েছি আমি।’

বিশেষ দিনে এই সম্মান তুলে দেওয়া হয় কেরলের কারথিয়ানি আম্মা ও ভাগীরথী আম্মার হাতেও। একজনের বয়স ৯৬, আরেকজনের ১০৫। নারী শক্তির ক্ষমতায়নের জন্য তাদের অবদান, এবং বয়সের বাঁধ ভেঙে শিক্ষার প্রসারের জন্য তাদের এই সম্মান জানানো হয়। ঝাড়খণ্ডের ‘লেডি টারজান’ হিসেবে পরিচিত ছামি মুর্মুর হাতেও এদিন ‘নারী শক্তি পুরস্কার’ তুলে দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি একজন পরিবেশবীদ হিসেবে খ্যাত। বনদপ্তরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ২৫ লক্ষের বেশি গাছ তিনি পুঁতে ফেলেছেন। বন্যপ্রাণকে বাঁচাতেও লাগাতার তাঁর চেষ্টার সম্মান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। এছাড়াও এদিন ‘নারী শক্তি পুরস্কার’ তুলে দেওয়া হয় লাদাখের নিলজা ওয়াংমো, বিহারের বীনা দেবীদের হাতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here