ilaria

Highlights

  • ‘রবীন্দ্রনাথ সেই কবি, যাঁর কবিতা আমার আত্মার কণ্ঠস্বর।’
  • কবিতাপ্রেমী ইলারিয়া ঘুরেও গিয়েছেন কলকাতা
  • ইলারিয়া ক্যালকাগনো থাকেন দক্ষিণ ইতালির নেপলস শহরে
  • ‘আপনার মাতৃভাষাটি বড় সুন্দর। একদিন আমিও আপনার ভাষা শিখব।’

শ্যামলেশ ঘোষ: ২৮ আগস্ট, ১৯১৪। রবীন্দ্রনাথ লিখলেন গান। ‘যখন তুমি বাঁধছিলে তার সে যে বিষম ব্যথা–/ (আজ) বাজাও বীণা, ভুলাও ভুলাও সকল দুখের কথা।’ বীরভূমের সুরুলে বসে লিখেছিলেন সে গান। শতবর্ষ পার হয়ে এসে সে গান যদি কোনও ইতালীয় রমণীর বুকে ব্যথা হয়ে বাজে? কী করবেন তিনি? রবীন্দ্রনাথের দেশ, মাতৃভাষা জানতে চাইবেন। সে ভাষা শিখতেও চাইবেন স্বাভাবিক ভাবে। ইলারিয়া ক্যালকাগনো তেমনই একজন মহিলা। যিনি শিখতে চান বাংলাভাষা।

ilaria
ইলারিয়া, ফেসবুকের ছবি।

ইলারিয়া অবশ্য চেতন কে জৈন সম্পাদিত নিউ ইয়র্কের দ্য ম্যাকমিলান কোম্পানি প্রকাশিত (১৯১৬) রবি ঠাকুরের ইংরেজি কাব্য সংকলন ‘ফ্রুট-গ্যাদারিং’-এর ইতালীয় অনুবাদ পড়ে রবীন্দ্রনাথকে বুঝতে চেষ্টা করেছেন। বলেছেন, ‘রবীন্দ্রনাথ সেই কবি, যাঁর কবিতা আমার আত্মার কণ্ঠস্বর।’ ফেসবুকে নিজের শাড়ি-পরিহিত ছবির সঙ্গে সেই কবিতার ইতালীয় এবং ইংরেজি সংস্করণ! ‘ফ্রুট-গ্যাদারিং’ কাব্যগ্রন্থের ৪৯ নম্বর কবিতাটি আসলে কবিগুরুর ‘গীতালি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত, যেটি পরে গান হয়ে ওঠে। পূজা পর্যায়ের এই গানের স্বরলিপিকার ইন্দিরা দেবী ও দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর।

ilaria
শাড়িতে ইলারিয়া।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতাকে সর্বদা বুকে বয়ে বেড়ান এই তরুণী। খোঁজ রাখেন মহাত্মা গান্ধি এবং মাদার টেরেসার। কবিতাপ্রেমী ইলারিয়া ঘুরেও গিয়েছেন কলকাতা। বাংলা শিখতে আগ্রহের কথা জানিয়েছেন তাঁর ফেসবুক-সখা তরুণ কবি ঋপন আর্যকে। লিখেছেন, ‘গতবছর আগস্টে আমি খুব অল্প সময়ের জন্য কলকাতায় কাটিয়েছি… যেতে চাই ফের। আপনার মাতৃভাষাটি বড় সুন্দর। আমার ভাষা ইতালিয়ান। একদিন আমিও আপনার ভাষা শিখব।’

ilaria
‘ফ্রুট গ্যাদারিং’ কবিতা সংকলনের ইতালীয় সংস্করণ।

ঋপন বাংলার প্রতি ইলারিয়ার সেই ভালবাসার বার্তা সমেত পোস্ট করেছেন ফেসবুকে। লিখেছেন, ‘একজন ইতালিয়ান যখন বাংলাভাষা নিয়ে, (সঙ্গে) মাদার টেরিজার সেই ছবিটি পাঠিয়ে উৎসাহ প্রকাশ করেন, যে ছবিতে উচ্চারিত হতে দেখছি বাংলা বর্ণমালা।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্রে এমন অনেক বিদেশির বাংলাভাষার প্রতি আগ্রহের কথাও জানিয়েছেন ঋপন। তাঁদের সঙ্গে আলাপচারিতার অংশও তুলে ধরে বিস্তারিত লিখেছেন পোস্টে।

ইলারিয়া ক্যালকাগনো থাকেন দক্ষিণ ইতালির নেপলস শহরে। নিকটেই রয়েছে এখনও সক্রিয় তীব্র আগ্নেয়গিরি মাউন্ট ভেসুভিয়াস, যা কাছের রোমান শহর পম্পেইকে ধ্বংস করেছিল। ভারতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার সঙ্গে ভেসুভিয়াসের দূরত্ব কম-বেশি পৌনে ৭ হাজার কিলোমিটার। বাংলাভাষার প্রতি ভালবাসা সেই দূরত্ব তুচ্ছ করবে, আশাবাদী তিনি। বাংলা ও বাঙালির এই সংকটের দিনে ‘বিদেশিনী’ আপনাকে স্বাগত। বাংলার প্রতি ভালবাসার এই বার্তার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার ভাষায় লিখি, Grazie per questo messaggio d’amore per il Bengala.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here