নিজস্ব প্রতিবেদক, নিমতা: দাদার সঙ্গে মদের আসরে বসেছিল ফুটবলার ভাই। কিন্তু এই মদের আসরই যে দু’ভায়ের শেষ আসর হবে, তা বোধহয় তারাও কল্পনা করেনি। মদ্যপানের সময় বচসায় জড়িয়ে পড়ে ছোট ভাইকে গুলি করে হত্যা করল দাদা। তারপর ওই দাদাও রেহাই পায়নি। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। সোমবার ভোররাতে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে নিমতার পাটনা অঞ্চলের অম্বিকানগরে। পুলিশ জানায়, মৃতের নাম অভিজিত্ বাড়ুই (২২)। তার দাদা সুরজিত্ বাড়ুইকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নিমতার পাটনা অঞ্চলের বাসিন্দা অভিজিত্ বাড়ুইয়ের ফুটবল-ই ছিল ধ্যান-জ্ঞান। বড় ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু সেই স্বপ্নের পাশাপাশি দুঃস্বপ্নের মত তার মদ্যপানের অভ্যাসও ছিল। অভিজিতের দাদা সুরজিতেরও মদ্যপানের নেশা ছিল। রবিবার রাতে পাড়ারই মদের ঠেকে মদ্যপান করতে বসে দুই ভাই। মদ্যপানের মাঝে রাত ১টা নাগাদ হঠাত্ই কোনও একটি বিষয় নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে বচসা বাধে। তারপর উত্তেজিত হয়ে ভায়ের ওপর গুলি চালিয়ে দেয় সুরজিত্। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় অভিজিতের। এরপরই টনক নড়ে সুরজিতের। ছোট ভাইকে নিজের হাতে খুন করে হতভম্ব হয়ে যায় সে। এর মধ্যে গুলির শব্দ শুনে ওই মদের ঠেকে ছুটে আসে এলাকাবাসী। তারাও অভিজিতের গুলিবিদ্ধ নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে হতবাক হয়ে যায়। তারপর তারাই নিমতা থানায় খবর দেয়। সঙ্গে সঙ্গে নিমতা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিজিতের দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায় এবং সুরজিতকে গ্রেফতার করে। সে কেন ছোট ভাইয়ের ওপর গুলি চালাল, কেবল মদের নেশার জের নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে- তা জানতে সুরজিতকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। তার কাছে রিভলভার এল কোথা থেকে, সে ব্যাপারেও তদন্ত শুরু করেছে।

অন্যদিকে, অভিজিতের এই অকাল মৃত্যুর ঘটনায় কেবল সুরজিত্ নয়, মদের ঠেক এবং পুলিশকেও অভিযোগের কাঠগড়ায় তুলেছে এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, এলাকা থেকে এই মদের ঠেক ওঠানোর কথা বহুবার বলা সত্ত্বেও পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। এছাড়া এলাকায় দুষ্কৃতীদেরও বাড়বাড়ন্ত হয়েছে। কিন্তু পুলিশ নির্বিকার বলেই তাদের অভিযোগ।

প্রসঙ্গত, মাস কয়েক আগে নিমতার পাটনা অঞ্চলেই দুষ্কৃতীদের গুলিতে বিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় তৃণমূল নেতা নির্মল কুণ্ডুর। সেই ঘটনার পর থেকে এলাকায় সারাক্ষণ পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তা সত্ত্বেও কয়েকদিন আগে পাটনা এলাকা থেকেই দুই ব্যাগ ভর্তি কৌটো বোমা উদ্ধার হয়। এবার এই উঠতি ফুটবলারের খুনের ঘটনায় নিমতা থানার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here