রাজেশ সাহা, কলকাতা: লকডাউন পরিস্থিতিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরপাক খাচ্ছে একাধিক বিতর্কিত ভিডিও। কোন ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে লকডাউনের নির্দেশ অমান্য করেই একসঙ্গে শতাধিক মানুষ রাস্তায় বেরিয়েছেন, মানা হচ্ছেনা সোশ্যাল ডিসটেন্সও। পুলিশের চোখ রাঙ্গানিকে রীতিমতো বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে বছরের আর পাঁচটা দিনের মতই রাস্তায় মানুষের জমজমাট ভিড়। কোন পোস্টে দাবি করা হয়েছে, ভিডিওটি খিদিরপুরের, কেউ আবার বলছেন ভিডিওটি মেটিয়াবুরুজ এলাকার। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এমনই বেশ কিছু ভিডিকে কেন্দ্র করে তর্কবিতর্কের জেরে গরমাগরম সোশ্যাল মিডিয়া। স্বাভাবিক ভাবেই ভিডিও গুলি দেখার পর কেউ পুলিশ প্রশাসনেরকে এক হাত নিয়ে ফেসবুকে ছুড়ে দিচ্ছেন কটাক্ষ, কেউ আবার রাজ্য সরকারের সদিচ্ছার অভাব নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। তবে তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, প্রত্যেকটি ভিডিওই ভিন রাজ্যের। গুজরাত, উত্তরপ্রদেশের মত বিভিন্ন রাজ্যের পুরনো ভিডিও কলকাতা বা এই রাজ্যের বলে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ফেসবুকে। লালবাজার সূত্রের খবর, সোশ্যাল মিডিয়ায় ফেক নিউজ বা গুজব ছড়ানোর অভিযোগে তাই গ্রেপ্তারিও লেগেই রয়েছে।

রবিবার কলকাতার বউবাজার এলাকার বাসিন্দা আরুশ শ নামে এক যুবক নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দুটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেন, প্রথম ভিডিওটি মেটিয়াবুরুজের এবং দ্বিতীয়টি হাওড়ার। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে সোশ্যাল ডিস্টেন্স না মেনেই রাস্তায় একসঙ্গে শতাধিক মানুষ। ভিডিওটি পোস্ট করে আরুশ শ প্রশ্ন তোলেন পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক মন্তব্যও করেন ওই ব্যক্তি। স্বভাবিক ভাবেই ভিডিওটি নিমেষে ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। বহু মানুষ তা বিশ্বাস করে শেয়ার করে আরো ছড়িয়ে দেন। তার জেরেই তৈরি হয় বিতর্ক। ভিডিও দুটি নজরে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিতে শুরু করেন নেটিজেনরা। গোটা বিষয়টি চোখে পড়তেই তদন্তে নামে কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ব্রাঞ্চ। তদন্তে নেমে খতিয়ে দেখা হয় মেটিয়াবুরুজ এলাকার একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ। জানা যায়, ফেসবুকে পোস্ট করা ভিডিওটি ওই এলাকার নয়। এর পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ফেক নিউজ বা গুজব ছড়ানোর অপরাধে আরুশ শ নামের ওই ব্যক্তিকে রবিবার রাতেই গ্রেপ্তার করে লালবাজার। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ভিডিওটির সত্যতা সে নিজেও জানে না বলে স্বীকার করেন অভিযুক্ত। ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় দন্ডবিধির ১৫৩-(এ), ৫০৫-(১-বি, (২) ধারা এবং তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৬৬ নং (আর/ডব্লিউ ৪৩) ধারাতে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। আজ সোমবার ধৃতকে আদালতে পেশ করা হয়।

তবে এমন ঘটনা নতুন নয়, লকডাউন ঘোষণার পর থেকেই এই ধরনের একাধিক ভিডিও ঘুরে বেড়াচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কিছুদিন আগেই হিমাংশু দেবনাথ নামে এক ব্যক্তি নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে একটি ভিড়বহুল রাস্তার ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেন, ভিডিওটি মেটিয়াবুরুজ এলাকার। তখনও অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, ওই ব্যক্তির পোস্ট করা ভিডিওটি আদতে গুজরাতের একটি পুরনো ভিডিও। সেটি যাচাই না করেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়ে দাবি করা হয় কলকাতার মেটিয়াবুরুজ এলাকার বলে। গুজব ছড়ানোর অপরাধে হিমাংশু দেবনাথ নামে সেই ব্যক্তিকেও ২৪ ঘন্টার মধ্যেই গ্রেফতার করে লালবাজার। পুলিশ সূত্রে খবর, এমনই আরও বেশ কিছু বিতর্কিত ভিডিও ঘুরে বেড়াচ্ছে ফেসবুক, ট্যুইটারে। যার জেরে সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া নজর রয়েছে কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ব্রাঞ্চের। প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং গুজব ছড়ানোর অপরাধে এক মহিলাকে গ্রেফতার করেছিল নিউ আলিপুর থানার পুলিশ। যারাই অশান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে সত্যতা যাচাই না করেই এই ধরনের পোস্ট করবে, তাদের বিরুদ্ধেই আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে লালবাজার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here