হিন্দু ও চিনাদের সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্যর জেরে বহিষ্কারের মুখে জাকির নায়েক

0
87
kolkata bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: ক্ষমা চেয়েও ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে পারলেন না ভারতীয় ইসলামী প্রচারক জাকির নায়েক৷ মালেয়শিয়ার কোথাও প্রকাশ্যে তিনি আর কোনও ভাষণ দিতে পারবেন না৷ যা পরিস্থিতি তাতে যো কোনও সময় তাঁকে মালয়েশিয়া থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে৷ তাঁর সবচেয়ে বড় রক্ষা কবচ সেদেশের প্রধানমন্ত্রী মাথথিও তাঁর ওপরে বেজায় খাপ্পা৷ তিনি সাফ জানান, যাবতীয় সীমা লঙ্ঘন করেছেন জাকির নায়েক৷

এদিকে মালয়েশিয়ায় হিন্দু এবং চিনা সম্প্রদায় সম্পর্কে তার স্পর্শকাতর মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। তাঁর দাবি, কোনও ব্যক্তি বা সম্প্রদায়কে আহত করার উদ্দেশ্যে তিনি কোনও মন্তব্য করেননি৷ তাঁর আরও দাবি, আমার বক্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। জাকির নায়েককে ইতোমধ্যেই মালয়েশিয়া থেকে বহিষ্কার দাবি উঠেছে। জাকির নায়েক এর আগেও বহুবার তার কথাবার্তার জন্য বিতর্কিত হয়েছেন। টেলিভিশনে ইসলাম ধর্ম বিষয়ক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। আমেরিকায় ১১ সেপ্টেম্বরের জঙ্গি হামলাকে তিনি ‘নিজেদের কাজ’ (ইনসাইডার জব) বলে বর্ণনা করেছিলেন। ২০১৬ সালে ভারতে তার বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদে উস্কানি দেওয়া এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠলে তিনি মালয়েশিয়ায় গিয়ে আশ্রয় নেন। সেখানে তাকে স্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়া কি এবার জাকিরকে ভারতের হাতে তুলে দেবে? এখন এটাই দেখার৷ দীর্ঘদিন ধরে  মোদী সরকার মাথাথি প্রশাসনের কাছে জাকিরের প্রত্যার্পণের আর্জি জানিয়ে আসছে৷

এত কিছুর পরেও জাকির নায়েক তার বিতর্কিত মন্তব্যে বলেছিলেন, তাকে মালয়েশিয়া থেকে বের করে দেওয়ার আগে সেখান থেকে চিনাদের তাড়িয়ে দেওয়া উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। বিতর্কিত এই মন্তব্যের পর পুলিশ এ বিষয়ে তাকে গত সোমবার দশ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তবে মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে জাকির নায়েক জানান, তার কথাকে অপ্রাসঙ্গিকভাবে উদ্ধৃত করা হচ্ছে এবং বিকৃত করা হচ্ছে। তিনি দাবি করছেন, কোনও ব্যক্তি বা সম্প্রদায়কে বিক্ষুব্ধ করা তার লক্ষ্য ছিল না।

মালয়েশিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা বার্নামা জানিয়েছে, মালয়েশিয়ায় কোন প্রকাশ্য সভায় তাঁর বক্তৃতা দেওয়া নিষিদ্ধ করেছে পুলিশ। উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ার মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশ মুসলিম। সেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় ভারতীয় এবং চিনা বংশোদ্ভূত মানুষও রয়েছে। ২০১০ সালে ‘অগ্রহণযোগ্য ব্যবহার’ এবং বিতর্কিত বক্তব্যর জন্য ব্রিটিশ সরকার তার বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তবে তিনি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসেন ২০১৬ সালে ঢাকার হোলি আর্টিজানে হামলার পর। ২০১৬ সালের নভেম্বরে ভারতের কাউন্টার টেররিজম এজেন্সি ধর্মকে পুঁজি করে ঘৃণা ছড়ানো এবং অনৈতিক কার্যকলাপের জন্য নায়েকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ আনে। এরপর ২০১৭ মালে নায়েক মালয়েশিয়ায় চলে যান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here